প্রসঙ্গ বিজিএমইএ ভবন

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন বিজিএমইএ নেতারা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৬      

সমকাল প্রতিবেদক

ভবন ভাঙতে আদালতের দেওয়া রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানাবে বিজিএমইএ। পুনর্বিবেচনার ফল যাই-ই হয়, তা মেনে নেওয়া হবে। তবে শেষ পর্যন্ত ভবন রক্ষা করা সম্ভব না হলে সুবিধামতো অন্য জায়গায় খাসজমি ও ভবন তৈরির খরচ চাওয়া হবে সরকারের কাছে। এ উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করবেন বিজিএমইএ নেতারা। সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতাদের এক বৈঠকে গতকাল শনিবার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএ ভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সভাপতি মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস, আনিসুর রহমান সিনহা, কুতুবউদ্দিন আহমেদ, কাজী মনির, টিপু মুন্সি, আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ, সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, আতিকুল ইসলাম, বর্তমান সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানসহ বর্তমান ও সাবেক নেতারা। বৈঠকে উপস্থিত বিজিএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ
নাছির সমকালকে জানান, উচ্চ আদালতের রায় হাতে পাওয়ার পর রিভিউ আপিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বৈঠকে। আদালতের পুনর্বিবেচনা যা-ই হোক, তারা তা মেনে নেবেন। তবে বিজিএমইএ ভবনের সঙ্গে দেশে এবং দেশের বাইরে বিশেষ করে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে এ দেশের পোশাকের ভাব-মর্যাদা জড়িত। এ বিষয়টি আদালত বিবেচনা করবেন বলেই তাদের প্রত্যাশা। পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে সুবিধাজনক জায়গায় সরকারি খাসজমির বিষয়টিও তাদের মাথায় রয়েছে।
বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, ভবন-সংক্রান্ত বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে কথা বলবেন বিজিএমইএ নেতারা। শেষ পর্যন্ত ভবন রক্ষা করা না গেলে রফতানি কার্যক্রম কীভাবে চালিয়ে নেওয়া যেতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরবেন তারা। বর্তমান ভবনের জায়গা কেনা এবং নির্মাণব্যয়ের বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করে নতুন ভবন নির্মাণে জমি ও আর্থিক সহায়তা চাওয়া হবে।
গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওমরা পালনের সময় তার সফরসঙ্গী ছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ও সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। সফরে বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করেছেন তারা।
ভূমির মালিকানাস্বত্ব না থাকা এবং ইমারত বিধিমালা ও জলাধার আইন ভঙ্গ করায় হাইকোর্ট ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল বিজিএমইএ ভবনকে অবৈধ ঘোষণা করে এটি ভেঙে ফেলার রায় দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে বিজিএমইএ। গত ২ জুন হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রাখেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।