গুলিস্তানে ব্যবসায়ী-হকার সমঝোতা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৬      

সমকাল প্রতিবেদক

রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় ঢাকা ট্রেড সেন্টারের ব্যবসায়ী ও হকারদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। টানা দু'দিন সংঘর্ষের পর শুক্রবার রাতেই তাদের মধ্যে সমঝোতা হয়। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এর আগে সংঘর্ষের ঘটনায় ১৯০ জনকে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। তারা সবাই ব্যবসায়ী পক্ষের লোকজন। এর পরই ব্যবসায়ীরা উদ্যোগী হয়ে সমস্যার সমাধান করেন। তারা ট্রেড সেন্টারের সামনের ফুটপাতে হকারদের বসার সুযোগ দেবেন। কিন্তু তারা আগের মতো ট্রেড সেন্টারের বারান্দায় বসতে পারবেন না।
ঢাকা ট্রেড সেন্টার দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন এমপি সমকালকে বলেন, 'সংঘর্ষের পর শুক্রবার হকারদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে, হকাররা ট্রেড সেন্টারের গেটের বাইরে বসতে পারবে। তারা কোনোভাবেই ট্রেড সেন্টারের ভেতরে বসতে পারবে না।'
পুলিশের মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) তারেক বিন রশিদ সমকালকে বলেন, টানা দু'দিন সংঘর্ষ চলার পর ব্যবসায়ী ও হকাররা নিজেদের মধ্যকার সমস্যার সমাধান করেছেন। গতকাল ট্রেড সেন্টার যথারীতি খোলা ছিল।
সম্প্রতি গুলিস্তান এলাকায় ঢাকা ট্রেড সেন্টারের সামনে ও আশপাশের ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করা হয়। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন ও ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ওই এলাকা পরিদর্শনে যান। তারা সেখান থেকে ফিরে যাওয়ার পর ট্রেড সেন্টারের দোকানি ও হকারদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এর জের ধরে শুক্রবারও ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ব্যবসায়ী পক্ষের দুই শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করে। এর পর যাচাই-বাছাই শেষে ১৯০ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে ট্রেড সেন্টারের দোকান মালিক সমিতির পদধারীরাও রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার সংঘর্ষের পর পল্টন থানার এসআই আবুল হাসান হাওলাদার বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। বৃহস্পতিবার রাতে পল্টন থানায় আরও দুটি মামলা হয়েছিল। এসব মামলায় শুক্রবার ১৯০ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়।
হকাররা জানান, সিটি করপোরেশন ও ডিএমপি সড়ক থেকে হকারদের উচ্ছেদ করেছে। গুলিস্তান এলাকার ফুটপাত থেকে তাদের উচ্ছেদ করা হয়নি। ট্রেড সেন্টারের ব্যবসায়ীরা তাদের জোর করে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করেছিল।
এ বিষয়ে মোজাম্মেল হোসেন নামে এক হকার সমকালকে বলেন, ঈদের আগে হকারদের ট্রেড সেন্টারের সামনে থেকে সরে যেতে চাপ দেন ব্যবসায়ীরা। রাজি না হওয়ায় জোর করে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় তাদের ওপর হামলাও চালানো হয়।