অধ্যাপক সৈয়দ সফিউল্লাহর ইন্তেকাল

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৬      

সমকাল প্রতিবেদক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. সৈয়দ সফিউল্লাহ (৭১) আর নেই। গত শুক্রবার ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। রসায়ন ও পরিবেশ বিজ্ঞানের খ্যাতিমান এ গবেষক স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
গতকাল শনিবার সকালে জাবি ক্যাম্পাসে উপাচার্যের বাসভবন সংলগ্ন মাঠে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে ঢাকার গুলশানের আজাদ মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
অধ্যাপক সফিউল্লাহর মৃত্যুতে জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম শোক প্রকাশ করেছেন।
সৈয়দ সফিউল্লাহ ১৯৭২ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যোগ দেন। রসায়ন বিভাগ থেকে ২০১২ সালে অবসরে যান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতিও ছিলেন তিনি। যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রিধারী এ গবেষকের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জার্নালে ২৫০টিরও বেশি গবেষণাপত্র, ৬০টি পর্যালোচনা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। ইউএনইপি এবং হামবুর্গ ইউনিভার্সিটির তত্ত্বাবধানে গ্গ্নোবাল কার্বন ট্রান্সপোর্ট নিয়ে গবেষণার পর ১৯৮৫ সালে তিনি লন্ডন রয়্যাল সোসাইটি অব কেমিস্ট্রির ফেলো নির্বাচিত হন।
পরের বছর তিনি বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্স থেকে বিজ্ঞানে অবদানের জন্য স্বর্ণপদক পান। দীর্ঘস্থায়ী পলিমারিত সম্পূরক জৈবিক সার সফিউল্লাহর আবিষ্কার, যা মাটির উর্বরতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধবও। ১৯৯১ সালে 'সুষমা সার' নামে এই সারের পেটেন্ট পান তিনি।
কৃষকদের সার-সংক্রান্ত সেবা দিতে সফিউল্লাহ সাভারের গোকুলনগরে প্রতিষ্ঠা করেন 'গ্রিন বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল প্রডাক্টস অ্যান্ড মিটিগেশন কনসালট্যান্টস লিমিটেড'। কাঁচামাল ব্যবহার করে সিমেন্ট এবং ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য বিশেষ সসও তৈরি করেন তিনি।