চট্টগ্রামে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার দগ্ধ লাশ নালায়

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৬      

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামের খুলশীতে নালা থেকে আশরাফ (২৮) নামের স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার অর্ধদগ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে আমবাগান ক্যান্টিন গেট এলাকায় পাহাড়ের ঢালসংলগ্ন নালায় লাশটি পাওয়া যায়। খুনের পর লাশটি আগুনে পোড়ানোর চেষ্টা করেছিল দুর্বৃত্তরা। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের চোখ ও বাঁ পাঁজরের নিচে আঘাতের চিহ্ন আছে। তবে যুবকটিকে অন্য কোথাও খুন করে এখানে লাশ ফেলা হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের। সকালে অজ্ঞাতপরিচয় লাশটি উদ্ধারের পর দুপুরে আশরাফের পরিচয় নিশ্চিত করে তার পরিবারের লোকজন।
স্থানীয় টিকিট প্রিন্টিং প্রেস কলোনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, গতকাল সকাল ৯টার দিকে তারা আমবাগান ক্যান্টিন গেট এলাকার ছোট্ট মাঠটিতে ক্রিকেট খেলছিল। হঠাৎ বল গিয়ে পড়ে অদূরের নালার পাশে। এ সময় বল কুড়াতে গিয়ে তাদের একজন দেখে একটি মরদেহ পড়ে আছে নালার ভেতরে। সে চিৎকার দিয়ে উঠলে আশপাশের মানুষ এসে পুলিশে খবর দেয়। পরে সকাল ১০টার দিকে পুলিশ এসে আশরাফের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহটির চোখসহ বিভিন্ন অংশ পোড়া ছিল।
পুলিশ জানায়, নিহত আশরাফ কর্ণফুলী থানার ইছানগরের বাসিন্দা মো. জামসেদের ছেলে। নগরীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের একটি অংশের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও নগর সাধারণ সম্পাদক এস কে খোদা তোতনের সমর্থকদের বিবদমান দুই গ্রুপের পূর্বশত্রুতার জেরে খুন হয়েছেন আশরাফ। এর একটি অংশের নেতৃত্বে ছিলেন মদ সেলিম। অন্যটির নেতৃত্বে আছেন আর্চি নামের একজন। নিহত আশরাফ আর্চির অনুসারী। ২০১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি দুর্বৃত্তের হামলায় নিহত হন মদ সেলিম। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি হলেন আশরাফ। ধারণা করা হচ্ছে, সেই বিরোধের জেরে খুন হয়েছেন তিনি।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন বলেন, 'পূর্বশত্রুতার জেরে খুন হয়েছেন আশরাফ। তার পরিবারের পক্ষ থেকে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে ২০১৪ সালের একটি হত্যা মামলার প্রধান আসামি তিনি।' গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলা হয়নি।