ডিজিএফআই ড্রোন আনছে

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৬      

সমকাল প্রতিবেদক

প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রতিকূল পরিবেশে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও সব ভিভিআইপি অবস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা অ্যান্টি ড্রোন সিস্টেম সংযোজন ও সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের জন্য সার্ভিল্যান্স ড্রোন ব্যবহার করবে।
বাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে এসব পরিকল্পনার কথা লিখিতভাবে সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে ডিজিএফআই। গতকাল বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়। কমিটির সভাপতি সুবিদ আলী ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আরও অংশ নেন মো. ইলিয়াস আলী মোল্লাহ, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী ও হোসনে আরা বেগম।
বৈঠকের কার্যপত্রে দেখা যায়, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের কর্নেল জিএস মো. সাজেদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে রাষ্ট্রের শীর্ষ এই গোয়েন্দা বাহিনীর আধুনিকায়নের জন্য নেওয়া পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৭২ সালের ২ নভেম্বর ডিফেন্স ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিএফআই) নামে যাত্রা শুরু হয়েছিল এই সংস্থার। বর্তমানে সারাদেশে সংস্থাটির ২৩টি শাখা কাজ করছে। আরও চারটি শাখা দ্রুতই কাজ শুরু করবে। বৈঠক
শেষে সুবিদ আলী ভূঁইয়া সমকালকে বলেন, ডিজিএফআইর প্রধান সমস্যা জনবল সংকট। এ ছাড়া তারা বেশকিছু স্থানে বাসা ভাড়া নিয়ে অফিস চালাচ্ছেন। ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনাসহ এই বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে তাদের অন্য পরিকল্পনার সঙ্গে সংসদীয় কমিটি একমত হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থাপিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গোয়েন্দা কার্যক্রম চালাতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি গোয়েন্দা অপারেশন চালাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ ক্রয় করা হয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সংস্থার পক্ষে ৩৭টি জিপ, ?ছয়টি পিকআপ, ২৭টি কার ও একটি মাইক্রোবাস কেনা হয়। এ ছাড়া দুটি রিকভারি ভেহিক্যাল ও দুটি মোবাইল ট্র্যাকার ভেহিক্যাল কেনার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। জাতীয় স্বার্থে বহির্বিশ্বে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে ও সামরিক কূটনীতির সক্ষমতা তৈরির জন্য নতুন ২০টি প্রতিরক্ষা শাখা ও আটটি কাভার পোস্ট সৃজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জঙ্গি অর্থায়ন রোধে সব ধরনের অনলাইন আর্থিক লেনদেন মনিটরিংয়ের সক্ষমতা অর্জনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভিভিআইপিদের অবস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও বিস্ফোরক দ্রব্য/অবৈধ মালপত্র চিহ্নিত করতে ভেহিক্যাল মাউন্টেড ভেহিক্যাল অ্যান্ড কনটেইনার স্ক্যানার সংযোজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সার্বিক গোয়েন্দা কার্যক্রমের জন্য বিগডাটা অ্যানালাইটিংয়ের জন্য মেইনফ্রেম কম্পিউটার স্থাপন করে জাতীয় পরিচয়পত্র, মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট, এনবিআরের ডাটাবেজ, ক্রিমিন্যাল ডাটাবেজ ও ফরেনার ডাটাবেজের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স এবং সাইবার সিকিউরিটির সক্ষমতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে ইলেক্ট্রনিক ওয়্যারফেয়ার, ট্রান্সফ্রন্টিয়ার ইন্টেলিজেন্স পরিচালনা, স্যাটেলাইট মনিটরিং ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা বাড়ানোরও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আরও বলা হয়, গত বছরের ১৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী নতুন আটটি শাখার অনুমোদন দিয়েছেন। এগুলো হচ্ছে সাতক্ষীরা, দিনাজপুর, নোয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ, পটুয়াখালী, পাবনা, কুষ্টিয়া ও ফরিদপুর। এর মধ্যে চারটি শাখা চলতি বছরের ১ আগস্ট অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ শুরু করেছে। এসব শাখার জন্য জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ ছাড়া ডিজিএফআইর সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আবাসন সমস্যা সমাধানে ২৩ আগস্ট একনেকে ১৫০ কোটি ৭১ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই প্রকল্প ২০১৯ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে বৈঠক শেষে সংবাদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কমিটির পক্ষ থেকে সংস্থাটির কার্যক্রম যুগোপযোগী করতে প্রশিক্ষণ বাড়ানো এবং সন্দেহজনক অনলাইন আর্থিক লেনদেন মনিটরিংয়ের সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া দেশের অভ্যন্তরে ও ক্রসবর্ডার সিকিউরিটি জোরদার করে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও বেশি তৎপর ও সম্প্রতি দেশে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার মূল পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিতের সুপারিশ করা হয়েছে।