সেমিনারে বক্তারা

পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে টেকসই প্রকল্প নিতে হবে

প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৬      

সমকাল প্রতিবেদক

দেশের অন্য অঞ্চলের চেয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাগুলো ভিন্ন। এখানকার পরিবেশও যেমন ভিন্ন, তেমনি জনগোষ্ঠীর মধ্যেও রয়েছে বৈচিত্র্য। এই এলাকায় ১১টি ক্ষুদ্র নৃতাত্তি্বক গোষ্ঠী বাস করে, যাদের ভাষা-ধর্ম-সংস্কৃতি সবই ভিন্ন। তাই এ অঞ্চলের অবকাঠামো ও জীবনমানের উন্নয়নে বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজন। স্থানীয় পরিবেশ ও জনগোষ্ঠীর জীবনাচারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের টেকসই উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে গতকাল রোববার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ইসিমোড ডে উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমন্বিত পার্বত্য উন্নয়নবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা-ইসিমোড যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী সেমিনারের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী সেশনে সভাপতিত্ব করেন ইসিমোডের চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা। এই সেশনে বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং, ইসিমোডের মহাপরিচালক ড. ডেভিড মোলডেন ও ড. একলাবায়া শর্মা। পল্লী
কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সভাপতি ড. কাজী খলীকুজ্জমানের সভাপতিত্বে দ্বিতীয় সেশনে বক্তব্য রাখেন চাকমা রাজা দেবাশীষ রায়, আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য গৌতম কুমার চাকমা, স্বাধীন পরামর্শক কীর্তি নিশান চাকমা প্রমুখ। সভায় মূল নিবন্ধন উপস্থাপন করেন ইসিমোডের অর্থনীতিবিদ ড. গোলাম রসুল।
ড. গওহর রিজভী বলেন, ধীরগতিতে হলেও শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন হচ্ছে, হবে। কারণ, আওয়ামী লীগ সরকার এ চুক্তি বাস্তবায়নে ওয়াদাবদ্ধ। তিনি বলেন, 'পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা মূলত শুরু হয়েছে দুই সামরিক শাসকের কারণে। পাকিস্তান আমলে আইয়ুব খান কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে হাজার হাজার পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে বাস্তুচ্যুত করেছে। আর পরে বাংলাদেশ আমলে জিয়াউর রহমান বাঙালিদের পাহাড়ের জায়গা দিয়ে সমস্যাকে আরও ঘনীভূত করেছে। শান্তিচুক্তির মাধ্যমে শেখ হাসিনা এ অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে এনেছেন। এখন এখানকার জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এ কাজে সাহায্য করছে।'
বীর বাহাদুর উ শৈ সিং বলেন, শান্তিচুক্তির পর পার্বত্য চট্টগ্রামে নানা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এ অঞ্চলের অন্যতম সমস্যা হলো খাদ্য সমস্যা। এখানে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ কম। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নদী ও ঝর্ণাগুলো শুষ্ক মৌসুমে পুরোপুরি শুকিয়ে যায়। খাদ্য ও পানির সংকটে দুর্গম পাহাড়ে বসবাস করা ক্ষুদ্র নৃতাত্তি্বক গোষ্ঠীগুলোর অস্তিত্ব হুমকির মুখে। তিনি এ অঞ্চলে ইকোট্যুরিজমের বিকাশ, ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি ও মানুষের আয় বাড়াতে সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকেও এগিয়ে আশার আহ্বান জানান।
নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা জানান, ইকোট্যুরিজমের বিকাশ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নয়নে ইসিমোডের সহযোগিতায় সরকার বান্দরবানে হিমালিকা এবং খাগড়াছড়িতে এডাপ্ট হিমাল নামে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়নসহ নানা সূচকে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। তবে এসব অগ্রগতির সূচকে সমতলের তুলনায় পার্বত্য অঞ্চল অনেক পিছিয়ে আছে। তাই এ অঞ্চলের টেকসই বিকাশে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।
সেমিনারে ইসিমোডের আট সদস্য রাষ্ট্র- চীন, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, নরওয়ে, সুইডেন, কানাডা, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ডসহ মোট ২০টি দেশের ৪২ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।