অনন্য জলপাই

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০১৭

লেখা ও ছবি : মোকারম হোসেন

জলপাই সারাবিশ্বেই মুখরোচক ফল হিসেবে সুখ্যাত। তবে গাছটির ফল, পাতা এবং বাকলও আমাদের নানান কাজে লাগে। স্থানীয়ভাবে অরুচি দূর করে ক্ষুধা বাড়াতে এ ফল খাওয়ানো হয়। পাতা ও বাকলের তৈরি টনিক অনেক রোগের মহৌষধ। পাতার নির্যাস হাইপারটেনশন এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কাজে লাগে। ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে বাকল ও পাতার রস মাউথওয়াশ হিসেবে এবং মালয়েশিয়ায় আলসার চিকিৎসায় ব্যবহার্য। তা ছাড়া ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে জন্মানো জলপাইয়ের তেল শুকনো ত্বকের জন্য কার্যকর। জলপাইয়ের আচার, চাটনি ও অম্বল আমাদের খুব প্রিয়। জলপাইয়ের স্বাদ টক-মিষ্টি ধরনের হওয়ায় কাঁচা অবস্থায় নুন-মরিচ মাখিয়ে খাওয়া নারী ও শিশুদের অতি
প্রিয় একটি কাজ।
জলপাই ফলের জন্য বিখ্যাত হলেও এর ফুলের সৌন্দর্য অসাধারণ। সারা গাছজুড়ে অসংখ্য ফুলের যে মেলা বসে, তার সৌন্দর্য উপেক্ষা করা কঠিন। ইদানীং আধুনিক ফলের বাগানগুলোতে ঢুকে পড়েছে নতুন নতুন আবাদিত জাতের জলপাই। এসব গাছ খুব একটা বড় হয় না। বছরে বেশ কয়েকবার ফলন হতে দেখা যায়। ঢাকায় রমনা পার্ক, চামেরি হাউস, বোটানিক্যাল গার্ডেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কয়েকটি বড় গাছ দেখা যায়। স্থানীয় অন্যান্য নাম_ জলপই, বেলপই, জলপি ইত্যাদি।
জলপাই (ঊষধবড়পধৎঢ়ঁং ভষড়ৎরনঁহফঁং) মাঝারি আকারের চিরসবুজ বৃক্ষ, সাধারণত ১০ থেকে ১২ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। গাঢ়-সবুজ পাতাগুলো লম্বায় ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার হতে পারে। সারা বছরই দু-চারটি করে পাতা ঝরে পড়ে। গ্রীষ্মের মাঝামাঝি মলিন সাদা রঙের থোকা থোকা ফুলগুলো ফোটে। ফল খাবার উপযোগী হয় শরৎ-হেমন্তে। তখন ফলের বাইরের আবরণ সবুজের কাছাকাছি একটি বিশেষ রঙ ধারণ করে। এ কারণে জলপাই রঙ সবার কাছে একটি বিশেষ রঙ হিসেবে পরিচিত। জলপাইয়ের গড়ন প্রায় আমড়ার মতোই। তবে আমড়ার চেয়ে আকারে অনেক ছোট। এর পাতলা আবরণের ভেতর থাকে খাবার উপযোগী শাঁস ও একটি শক্ত আঁটি বা বীজ। শাঁস থেকেই তৈরি হয় জলপাইয়ের তেল। বেশিরভাগ তেল রফতানি করে ভূ-মধ্যসাগরীয় দেশগুলো।