প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে সম্পাদিত চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের সম্পর্কর্ নতুন মাত্রায় উন্নীত হবে। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ই আরও এগিয়ে যাবে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে শেখ হাসিনার ভারত সফরের মূল্যায়ন নিয়ে 'বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারতের সফল সফর' শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। যৌথভাবে এর আয়োজন করে বাংলাদেশ হেরিটেজ ফাউন্ডেশন ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।
আলোচনায় অংশ নিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বর্তমান মেয়াদেই তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সই হবে। ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, দুই দেশের মধ্যে যে ৬০টি দলিল সই হয়েছে, তা ছোট অর্জন নয়; দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অপার সম্ভাবনার কথা বলে। এসব দলিল সই সম্পর্ক এগিয়ে নিতে দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সদিচ্ছাই তুলে ধরে।
হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ওয়ালিউর রহমানের সভাপতিত্বে ও এফবিসিসিআইর সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. গোবিন্দ চক্রবর্ত্তী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আমেনা মহসীন প্রমুখ। সেমিনারে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ব্যবসা-বিনিয়োগ সম্পর্কে প্রবন্ধ উপস্থাপন
করেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান
ড. জাইদি সাত্তার।
শেখ হাসিনার বর্তমান মেয়াদেই তিস্তার পানি বণ্টন সমস্যার সমাধান হবে উল্লেখ করে হাসানুল হক ইনু বলেন, কারণ এ বিষয়ে দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গি একই জায়গায় রয়েছে। ভারতের কোন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কী বললেন, তা নয়; দিলি্ল চায় বলেই তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি হবে, সেটাই বাংলাদেশ বিশ্বাস করে। তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিরক্ষা বিষয়ে যে সমঝোতা হয়েছে, এর ফলে দেশের সামরিক বাহিনীর দক্ষতা-সক্ষমতা বাড়বে।
হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, হাসিনা-মোদির আমলে দুই দেশের রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ভারত ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়তা দেবে। জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় দু'দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সহযোগিতার কেন্দ্রে রয়েছে। দু'দেশের সম্পর্কের ভেতরে ইতিহাসের শিকড় আছে; আবেগ-বাস্তবতা ও প্রয়োজনও আছে।

মন্তব্য করুন