অব্যাহত পাহাড় কাটা ও অবৈধ দখলের কারণে কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী হিলটপ সার্কিট হাউস ঝুঁকিতে পড়েছে। যে কোনো সময় পাহাড় ধসে স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কক্সবাজার শহরের প্রাণকেন্দ্রে পাহাড়ের চূড়ায় নির্মিত হিলটপ সার্কিট হাউস একটি দর্শনীয় স্থান। এ পাহাড়েই রয়েছে অন্য একটি স্পর্শকাতর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রাডার স্টেশন। হিলটপ সার্কিট হাউস দেখতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পর্যটকের সমাগম হয়। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীসহ ভিভিআইপিরা কক্সবাজার এলে এখানেই অবস্থান করেন। এ ছাড়া এই পাহাড়ের চূড়া থেকে একনজরে দেখা যায় পুরো কক্সবাজার শহর। স্থাপনাটিকে ঝুঁকিতে ফেলেছে পাহাড়খেকোরা। গতকাল সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সার্কিট হাউস পাহাড়ের পূর্ব পাশে পাঁচ একরের বেশি জমি অবৈধ দখলে। প্রভাবশালী এসব দখলদার পাহাড় কেটে এখানে তৈরি করেছে শতাধিক স্থাপনা। কেউ কেউ ভাড়াঘর বসিয়েছে। এদিকে, গতকাল জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস
করা শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, পাঁচ বছর ধরে চলছে এই অবৈধ দখল প্রক্রিয়া। দখলদারদের অনেকে ভুয়া কাগজও তৈরি করেছে। তারা পাহাড় কেটে ঘরবাড়ি তৈরি করায় সার্কিট হাউসের পাশাপাশি ঝুঁকিতে পড়েছে পাশের রাডার স্টেশন। গত দুই বছরে পাহাড় ধসে এখানে চারজনের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। পাহাড়টিতে ওঠার দুটি রাস্তার মধ্যে একটি এই বর্ষায় যে কোনো সময় ধসে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। গত বছর রাডার স্টেশনের পশ্চিম পাশের বড় একটি অংশ ধসে পড়েছিল।
গতকাল সকালে হিলটপ সার্কিট হাউস পাহাড় পরিদর্শন করেছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পাশ থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। এ সময়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, গত মাসে এখানে কয়েকটি অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। বাকি স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করে সার্কিট হাউসের পুরো ভূমি দখলমুক্ত করা হবে। দখলদাররা অব্যাহত পাহাড় কাটায় সার্কিট হাউসসহ পাশের রাডার স্টেশনটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এটি রক্ষায় প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে আট লাখ টাকা পাওয়া গেছে, যা দিয়ে সীমানা বেষ্টনী নির্মাণসহ সার্কিট হাউসের সংস্কারকাজ হাতে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, জেলা প্রশাসনের তিনজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত তিনটি দল গতকাল উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে কক্সবাজার শহরের পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বসবাসরত শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। শহরের ঘোনারপাড়া, লাইটহাউসপাড়া, বাদশাঘোনা ও পাহাড়তলী এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। গত কয়েক দিনের অব্যাহত বর্ষণের কারণে এই পাহাড়গুলো ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় প্রশাসন এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কাজী আবদুর রহমান জানান, কক্সবাজার শহরসহ জেলার অন্য পাহাড়গুলোতে অতিঝুঁকি নিয়ে বসবাসরত পাঁচ হাজার পরিবারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পাহাড় থেকে তাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গতকাল এ বিষয়ে একটি সমন্বয় সভাও হয়েছে।

মন্তব্য করুন