সাবধান, সামনে পুকুর! এখানে মাছ চাষ হয়

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৭      

এস এম কাওসার,বগুড়া ব্যুরো

বগুড়া শহরের ব্যস্ততম চেলোপাড়া থেকে সাবগ্রাম পর্যন্ত সড়কের বেহালদশা। এ এক কিলোমিটার সড়কে দুই শতাধিক খানাখন্দ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ওই সড়কের এসব খানাকন্দে একটু বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। রাস্তাটি সংস্কারের জন্য একাধিকবার মানববন্ধন ও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিয়েও প্রতিকার পাচ্ছে না এলাকাবাসী।
ফলে সেখানে মাছ চাষের সাইনবোর্ড টানিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ জানিয়েছে তারা। শুক্রবার এক ব্যক্তিকে ওই রাস্তার আকাশতারা এলাকায় সাইনবোর্ডের পাশে বসে বড়শিতে মাছ শিকারের প্রতীকী কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়।
তিন বছর ধরে রাস্তাটির কোনো সংস্কার না হওয়ায় ছোট ছোট গর্তে যানবাহন আটকে প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে।
গাবতলী, সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা- এই তিন উপজেলার মানুষের যাতায়াতের মাধ্যম ব্যস্ততম এ রাস্তা দিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ নানা ধরনের যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু রাস্তাটি এখন চলাচলকারীদের কাছে আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে। এ রাস্তার ছোট, বড়, মাঝারি আকারের দুই শতাধিক গর্তে বর্ষায় কাদা-পানি জমে থাকে। আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলার সমুদ্র মনে হয়। এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ছে বিভিন্ন গণপরিবহন। যানবাহনে উঠলে ঝাঁকুনির কারণে যাত্রীরা অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন।
বগুড়া সদর-৬ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম ওমর একাধিকবার রাস্তাটির বেহালদশার চিত্র সংসদে তুলে ধরেছেন। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। এদিকে রাস্তাটি পৌর এলাকার মধ্যে হলেও পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, এটির সংস্কার তাদের আওতাভুক্ত নয়। পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট মাহবুবর রহমান বলেন, পৌর এলাকার মধ্যে এমন ৭টি রাস্তা রয়েছে, যেগুলোর কোনোটি সড়ক বিভাগের, আবার কোনোটি এলজিইডির আওতাধীন। ফলে এগুলো সংস্কারের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বিভাগের।
বগুড়া সড়ক বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী গোলাম আজম বলেন, রাস্তাটির টেন্ডার করা হয়েছে। শিগগির সংস্কার কাজ শুরু হবে।
এদিকে জেলার শাজাহানপুরের মাঝিড়া-সোনাহাটা সড়কেরও কার্পেটিং ওঠে গিয়ে বেহালদশা। সড়কটি ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের মাঝিড়া বন্দর থেকে শুরু করে ধুনট উপজেলার সোনাহাটা এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ। এ রাস্তা দিয়ে পার্শ্ববর্তী গাবতলী, ধুনট ও শাজাহানপুর উপজেলার ২০ গ্রামের কয়েক লাখ মানুষ প্রতিদিন উপজেলা সদর ও জেলা শহরে যাতায়াত করে। এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, সাধারণ পথচারী ছাড়াও শাকসবজি বহনকারী যানবাহন চলে। এ ছাড়া নিয়মিত চলাচল করছে ইটভাটার ইট ও মাটি বহনকারী ট্রাক।
স্থানীয় চোপীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাফ্ফর রহমান জানান, ১৯৯৬ সালে রাস্তাটি পাকা করা হয়। এরপর এটি গত ২২ বছরে মাত্র একবার সংস্কার করা হয়েছে। বর্তমানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে শাজাহানপুর উপজেলা প্রকৌশলী ইসমাইল হোসেন জানান, অর্থ বরাদ্দ না থাকায় রাস্তাটি চলতি অর্থবছরে সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বরাদ্দ পাওয়া গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এটি সংস্কার করা হবে।