পরোয়ানার আসামি নিয়ে চিফ হুইপের সফর

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৭      

বরিশাল ব্যুরো

হামলার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে নিয়ে পটুয়াখালীর বাউফলে নদীভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ। দ্রুত বিচার আইনে হওয়া মামলার এক আসামিকে নিয়ে উপজেলার মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভাও করেছেন তিনি। এসব ঘটনায় চিফ হুইপের নির্বাচনী এলাকা বাউফলে (পটুয়াখালী-২) দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
গত শুক্রবার বেলা ১১টায় বাউফল উপজেলার ধুলিয়া লঞ্চঘাট এলাকার নদীভাঙন পরিস্থিতি পরিদর্শনে যান আ স ম ফিরোজ। এ সময় চিফ হুইপের সঙ্গে ছিলেন ধুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আনিচুর রহমান ওরফে আ. রব। গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি ইউনিয়নের আলোকি-চাদকাঠী খেয়াঘাট এলাকায় তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান আ. জব্বারের ওপর হামলার মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি তিনি। বাউফল থানা পুলিশ বলছে, পলাতক থাকায় আনিচুর রহমানকে গ্রেফতার করা যাচ্ছে না। তবে চিফ হুইপের সঙ্গে ওই সফরে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা, ইউএনও, দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. লুৎফর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
জানতে চাইলে বাউফল থানার ওসি আযম খান ফারুকী বলেন, 'ইউপি চেয়ারম্যান আনিচুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। তবে তিনি পলাতক থাকায় গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না।' থানার পরিদর্শকের (তদন্ত) উপস্থিতিতে আনিচুর চিফ হুইপের সঙ্গে ছিলেন_ এমন জিজ্ঞাসার জবাবে কোনো মন্তব্য করেননি ওসি।
তবে আনিচুর রহমান দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা নেই। আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিয়েছেন।
এদিকে গত মঙ্গলবার বাউফল উপজেলার মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কমিটির সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজ। ওই সভায় কমিটির সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম ফারুক বক্তৃতা করেন। গত ২১ জুন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সরকারি কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুর এবং এক ইউপি
চেয়ারম্যানকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে বাউফল থানায় একটি
মামলা হয়। নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম ফারুক ওই মামলার অন্যতম আসামি।
সভা সূত্রে জানা গেছে, আইন-শৃঙ্খলা কমিটির ওই সভায় ইব্রাহিম ফারুক বক্তব্য দিয়ে চলে যাওয়ার পর যোগ দেন ওসি আযম খান ফারুকী।
এসব বিষয়ে জানতে চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের সঙ্গে গতকাল শনিবার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেছেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বাউফল আওয়ামী লীগের দু'গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছে। একপক্ষের নেতৃত্বে আছেন চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ। অপরপক্ষে আছেন পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাউফল পৌরসভার মেয়র মো. জিয়াউল হক জুয়েল। এ দুই নেতার দ্বন্দ্বে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ লেগেই আছে। অপরদিকে চিফ হুইপ আসামিদের নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা সভা ও সফর করায় সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।