গৃহবধূ ও যুবককে বেঁধে ঘোরানো হলো গ্রাম

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৭      

মেহেরপুর প্রতিনিধি

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার করমদী গ্রামে সালিশে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে নির্যাতন করা হয়েছে। পরকীয়ার অভিযোগ তুলে ওই গ্রামের এক যুবক ও গৃহবধূকে একসঙ্গে বেঁধে গ্রাম ঘুরিয়ে মারধর করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মিথ্যা অপবাদ দিয়ে গৃহবধূ ও তার বোনকে স্বামীর সংসার থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন মাতবররা। গত ২ জুলাই সকালে গ্রাম্য সালিশে দু'জনকে মারধরের সেই ভিডিও এবং ছবি শুক্রবার বিকেলে প্রকাশ হলে তোলপাড় শুরু হয়।
ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, গ্রামের আশরাফুল নামে এক যুবকের ডান হাত গৃহবধূর বাম হাতের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে ঘোরানো হয়। এক পর্যায়ে গৃহবধূর বাড়ির পাশে বসানো হয় সালিশ বৈঠক। সেখানে দু'জনকে বাঁধা অবস্থায় বসিয়ে রাখা হয়। উৎসুক এক ব্যক্তির মোবাইল ফোনে তোলা ভিডিও এবং ছবি সাংবাদিকদের হাতে আসে।
অভিযুক্ত যুবক আশরাফুল ইসলাম বলেন, তেঁতুলবাড়ীয়া ইউপির চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, সদস্য আমানুল্লাহ ও করমদী গ্রামের মাতবর বজলুর রহমান বজলুসহ
কয়েকজন সালিশ করেন। পরকীয়ার অভিযোগে গৃহবধূর সঙ্গে তার বিয়ে পড়িয়ে দেওয়া হয়। সালিশেই তার কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা আদায়ের পর গৃহবধূকে তালাক দিতে বাধ্য করা হয়। পূর্বশত্রুতার জের ধরে চেয়ারম্যানসহ কয়েকজন এ কাজ করেছেন। লজ্জায় তিনি বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ওই গৃহবধূর স্বামী মালয়েশিয়া প্রবাসী। তার ৭ বছর বয়সী এক সন্তান রয়েছে। দেবরের সঙ্গে তার ছোট বোনের বিয়ে হয়েছিল। তার ছোট বোনকেও বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন মাতবররা। দুই বোন এখন পিতার বাড়িতে অবস্থান করছেন। নির্যাতিত গৃহবধূ মোবাইল ফোনে বলেন, অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করে তাকে ঘরছাড়া করা হয়েছে। তার স্বামী, শ্বশুর বা পরিবারের কারও মতামত নেননি মাতবররা। ওই যুবকের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্কও ছিল না।
গৃহবধূর পিতা বলেন, 'মিথ্যা অপবাদে দুই মেয়েকে আমার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম তার বাড়িতে এসে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা দিয়েছেন। এই টাকা তারা আশরাফুলের কাছ থেকে আদায় করেছেন। আমি টাকা দিয়ে কী করব? আমার দুই মেয়েকে তাদের সংসারে ফিরিয়ে দিলেই শান্তি পাব। সালিশের নামে যারা অবিচার করেছে, তাদের নামে মামলা কিংবা অভিযোগ করার সাহস পাচ্ছি না।'
মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'আমাকে সালিশ করার জন্য রাত ২টার সময় ডাকা হয়েছিল। অব্যাহত ডাকাডাকির পর সকাল ৮টার দিকে গিয়ে দেখি সালিশ করা হয়ে গেছে। আমি শুধু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ছেলেকে ছেলের বাড়ি ও মেয়েকে মেয়ের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি।' ইউপি সদস্য আমানুল্লার সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ বলেন, শনিবার খবর পেয়ে তিনি বিষয়টি তদন্ত করার জন্য গাংনীর ইউএনওকে বলেছেন। গাংনী থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। খোঁজখবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।