এক বছর একঘরে রাখার পর কবর দিতেও বাধা

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৭      

বগুড়া ব্যুরো

বগুড়ার নন্দীগ্রামে একঘরে বা সমাজচ্যুত করে রাখা লুৎফুন্নেছা (৪০) নামে এক গৃহবধূর লাশ কবর দিতে বাধা দিয়েছে গ্রাম্য প্রভাবশালীরা। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে লাশ কবর দেওয়া হয়। গতকাল শনিবার জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার নামুইট এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দ্বিতীয় বিয়ের অপরাধে প্রায় এক বছর আগে নামুইট গ্রামে নিজাম উদ্দিনের পরিবারকে একঘরে করে রাখে গ্রাম্য প্রভাবশালীরা। ফলে পরিবারটির কারও সঙ্গে গ্রামের লোকজনকে মিশতে দেওয়া হতো না। এরই মধ্যে গত শুক্রবার রাতে নিজাম উদ্দিনের প্রথম স্ত্রী লুৎফুন্নেছা মারা যান। তাই আত্মীয়স্বজনরা নামুইট সরকারি কবরস্থানে লাশ দাফনের জন্য প্রস্তুতি নেন। কিন্তু একঘরে থাকার কারণে লাশটি ওই কবরস্থানে কবর দিতে বাধা দেয় প্রভাবশালীরা। এ নিয়ে লুৎফুন্নেছার স্বজনরা অনেক অনুরোধ করলেও তারা শোনেনি। পরে গতকাল শনিবার পার্শ্ববর্তী বেলঘরিয়া গ্রামে লুৎফুন্নেছার বাবার বাড়িতে কবর দেওয়া হয়।
এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে নন্দীগ্রাম থানার এসআই ইনামুল হক ফোর্স নিয়ে নামুইট গ্রামে যান। এ সময় পুলিশ আসার খবরে অভিযুক্ত প্রভাবশালীরা পালিয়ে যায়। পরে বিকেলে
স্থানীয়দের নিয়ে বৈঠক করে নিজাম উদ্দিনের পরিবারের ওপর থেকে সমাজচ্যুতির শাস্তি তুলে নেওয়া হয়।
নামুইট গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেন ও আকবর আলী জানান, নিজাম উদ্দিনের পরিবারকে সমাজচ্যুত করেছে এলাকায় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত গোলাম রব্বানী, আশরাফ আলী, রহমত আলী ও লোকমান হোসেন নামে চারজন। তারাই লুৎফুন্নেছার লাশ কবর দিতে বাধা দিয়েছিল। তবে অভিযুক্তরা প্রত্যেকেই পালিয়ে যাওয়ায় তাদের সঙ্গে কথা বলা যায়নি।
নন্দীগ্রাম থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক বলেন, সমাজচ্যুত করা ও কবর দিতে বাধা দেওয়া বেআইনি ও অমানবিক। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।