উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

বাঁধে আশ্রয় নেওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছে

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৭      

সমকাল ডেস্ক

যমুনাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উত্তরাঞ্চলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। গতকাল শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনার পানি বেড়ে বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এসব এলাকার অনেক পরিবার নদীরক্ষা বাঁধে আশ্রয় নিচ্ছে। সমকালের ব্যুরো ও সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার চরবেষ্টিত চারটি ইউনিয়ন এবং নদী-তীরবর্তী আরও দুটিসহ মোট ছয়টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে উঠতি পাট, আউশ ধানসহ তিন হাজার হেক্টর জমিতে লাগানো বিভিন্ন ধরনের ফসল নষ্ট হয়েছে। পানি ঢুকে পড়ায় উপজেলার ৪৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পানিবন্দি মানুষ জানমাল রক্ষায় তাদের অস্থায়ী বসতবাড়ি নৌকায় তুলে নিকটবর্তী বাঁধে সরিয়ে নিচ্ছেন। উপজেলার কামালপুর, কুতুবপুর ও চন্দনবাইশা এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নেওয়া এক হাজার পরিবারের মধ্যে গতকাল ২০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান গতকাল বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে এসব ত্রাণ বিতরণ করেন।
পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে পাশের বাঙালী নদীতেও। একই সময়ের ব্যবধানে ওই নদীতে চার সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। যদিও বাঙালী নদী বিপদসীমার অনেক নিচ দিয়ে বইছে; কিন্তু যমুনার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় তীরবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ, সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার নদী-তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও বিস্তীর্ণ চর এলাকা পানির নিচে। ওই চার উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, পাটক্ষেত ও ফসলের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। কিছু কিছু বাড়ির আঙিনায়ও পানি উঠেছে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন জানান, তার ইউনিয়নের আটটি ওয়ার্ডে কমপক্ষে তিন হাজার পরিবার পানিতে ভাসছে। কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার, গঙ্গাধর, জিঞ্জিরামসহ ১৬টি নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন করে আরও নয়টি ইউনিয়নের ৫০টির মতো গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ নিয়ে ২০টি ইউনিয়নে প্লাবিত গ্রামের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দেড় শতাধিক। এসব গ্রামে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ১৫ হাজার পরিবারের ৭৫ হাজার মানুষ। চিলমারী উপজেলার ছয় ইউনিয়নের তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে রয়েছে। নয়াহাট ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবু হানিফ জানিয়েছেন, তার ইউনিয়নে গত এক সপ্তাহে ৫০টি বাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
এদিকে শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, গতকাল ভোর থেকে পদ্মার পানি বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বিভিন্ন ইউনিয়নের আটটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি স্থানে দেখা দিয়েছে নদীভাঙন।