দৈনিক অবজারভারের ফটোসাংবাদিক আশিক মোহাম্মদকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিকরা। এ দাবিতে গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। 'পকেটে ইয়াবা দিয়ে' আশিককে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযোগ এনে সাংবাদিক নেতারা বলেন, বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে তাকে মুক্তি না দিলে পল্টন থানা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করা হবে।
এদিকে, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক গতকাল বলেছেন, আশিককে গ্রেফতারের ঘটনায় পুলিশের দায় থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ২৭ জুন রাতে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকা থেকে আশিককে আটক করে পল্টন থানা পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, আটকের পর পুলিশ তাকে ছেড়ে দিতে এক লাখ টাকা ঘুষ চায়। না দিলে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন পল্টন থানার সহকারী উপপরিদর্শক আশরাফ আলী। ঘুষের টাকা না পেয়ে আশিককে নির্যাতন চালিয়ে পরের দিন সকালে ১০ পিস ইয়াবা দিয়ে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
গতকাল সমকালের প্রথম পাতায় 'এক লাখ টাকা দে, নইলে ইয়াবায় ফেঁসে যাবি' শিরোনামে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ওই সাংবাদিককে গ্রেফতার ও পুলিশের ভূমিকার বিস্তারিত তথ্য উঠে আসে। অবশ্য অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা আশরাফ আলী ঘুষ চাওয়া ও নির্যাতনের কথা অস্বীকার করেন।
আশিককে 'ইয়াবায় ফাঁসিয়ে' গ্রেফতারের
প্রতিবাদ ও তার মুক্তির দাবিতে গতকাল বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন সাংবাদিকরা। এতে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নেতৃবৃন্দসহ শতাধিক সাংবাদিক অংশ নেন।
সমাবেশে বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব পুলক ঘটক বলেন, কয়েকজন টহল পুলিশের সঙ্গে কথা কাটাকাটির জেরে আশিককে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তার পকেটে ১০টি ইয়াবা দিয়ে মাদকের মামলা দেয় পুলিশ।
ডিইউজে সভাপতি শাবান মাহমুদ বলেন, আশিককে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে মুক্তি না দিলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দেব।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে ডিইউজে সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, ডিআরইউ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, সাধারণ সম্পাদক মোরসালিন নোমানীসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।
এদিকে আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক বলেছেন, ফটোসাংবাদিক আশিক মোহাম্মদকে গ্রেফতারের ঘটনায় যদি পুলিশের কোনো দায় থাকে, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের কেউ জড়িত থাকলে কঠোর শাস্তি পেতে হবে।
গতকাল দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মাদকবিরোধী এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন আইজিপি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশও দেন তিনি।

মন্তব্য করুন