ঋতুস্রাবের সময় পেটে ব্যথা ও করণীয়

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৭      

ডা. লুৎফা বেগম লিপি, কনসালট্যান্ট, গাইনি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

ঋতুস্রাবের সময় পেটে ব্যথা মেয়েদের খুব প্রচলিত একটি সমস্যা। এ সময় তলপেটে ব্যথা অনুভূত হয় না এমন নারীর সংখ্যা কম। সাধারণত অল্প বয়সেই এই সমস্যা বেশি হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যথাটা সহনীয় মাত্রায় থাকে। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে ব্যথা তীব্র হয়। ঋতুস্রাবের এ ধরনের ব্যথাকে বলে ডিজম্যানোরিয়া। ডিজম্যানোরিয়া দুই রকম হতে পারে। প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি। যখন এ সমস্যার অন্য কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না, তখন সেটাকে বলে প্রাইমারি ডিজম্যানোরিয়া। সাধারণত ১৬ থেকে ২৪ বছরের মেয়েদের এই সমস্যা বেশি হয়। তলপেটের পেশিগুলোর অতিসংবেদনশীলতা, কিছু হরমোনের প্রভাব, মানসিক
চাপ, হতাশা, বিষণ্নতা, কম ওজন ইত্যাদি এর কারণ হিসেবে ধরা হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যথা এমনিতেই সেরে যায়। অনেক সময় প্রথম সন্তান প্রসবের পর এই ব্যথা সেরে যায়। অন্যদিকে বিশেষ কোনো কারণে ঋতুস্রাবের সময় ব্যথা হলে তখন তাকে সেকেন্ডারি ডিজম্যানোরিয়া বলে। জরায়ুর ইনফেকশন, পলিপ, টিউমার, জন্মগত ত্রুটি ইত্যাদি কারণে ঋতুস্রাবের সময় ব্যথা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যথার নেপথ্য কারণ শনাক্ত করে চিকিৎসা করালে ব্যথা সেরে যায়। কাউন্সিলিং হলো প্রাইমারি ডিজম্যানোরিয়ার প্রধান চিকিৎসা। ঋতুস্রাব সম্পর্কে মেয়েদের বোঝাতে হবে। ব্যথার কারণ সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। খুব খারাপ কিছু যে হয়নি, এ বিষয়ে আশ্বস্ত করতে হবে। সেকেন্ডারি ডিজম্যানোরিয়ার ক্ষেত্রে ব্যথার কারণটি খুঁজে বের করে সে অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হবে। ইনফেকশন থাকলে এন্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। এ ছাড়া ব্যথার মাত্রা অনুযায়ী প্যারাসিটামল, মেফেনামিক এসিড, ন্যাপ্রোক্সেন সোডিয়াম, টাইমোনিয়াম মিথাইলসালফেট প্রভৃতি ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন যেতে পারে।