উত্তরা গণভবন থেকে আজ সরছে মোনায়েম খানের নামফলক

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৭      

নাটোর প্রতিনিধি

মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নাটোরের উত্তরা গণভবন থেকে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে কুখ্যাত মোনায়েম খানের নামফলক। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ-সংক্রান্ত চিঠি পেঁৗছেছে নাটোর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে। প্রকৌশলী মশিউর রহমান আকন্দ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ড. আজাদুর রহমান জানান, আজ রোববার সরানো হবে ওই নামফলক। দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহাসিক এ স্থাপনা থেকে মোনায়েম খানের নামফলক অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা।
জেলা গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, নামফলকটি অপসারণের জন্য গত ২৯ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠির বরাতে ৪ জুলাই গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সুরাইয়া বেগম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি নাটোরের গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমানের কাছে এসে পেঁৗছে ৫ জুলাই। চিঠিতে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় মোনায়েম খানের নামফলক অপসারণ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
নাটোর গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় মোনায়েম খানের নামফলক অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসন মিলে নামফলকটি অপসারণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
উত্তরা গণভবনটি ছিল দিঘাপতিয়া রাজবংশের প্রাসাদ। প্রাসাদের মূল অংশ এবং সংলগ্ন কিছু ভবন নির্মাণ করেন রাজা দয়ারাম রায়। ১৮৯৭ সালে ভূমিকম্পে প্রাসাদটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। রাজা প্রমদা নাথ রায় এটি পুনরায় নির্মাণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর দিঘাপতিয়ার শেষ রাজা প্রতিভা নাথ রায় দেশ ছেড়ে চলে যান। ১৯৬৫ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার পরিত্যক্ত রাজবাড়িটি অধিগ্রহণ করে। ১৯৬৭ সালের ২৪ জুলাই পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর মোনায়েম খান এটিকে গভর্নর হাউসে রূপান্তর করেন। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান এটিকে উত্তরা গণভবন হিসেবে ঘোষণা দেন। ১৯৭২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মূল প্রাসাদের ভেতর মন্ত্রিসভার বৈঠক আহ্বান করেন তিনি। সেই থেকে ভবনটি 'উত্তরা গণভবন'-এর মর্যাদা পায়। এর পর থেকে শেখ মুজিবুর রহমান ও মোনায়েম খানের নামফলক গণভবনের মূল প্রাসাদের প্রবেশদ্বারে পাশাপাশি রয়েছে। এ নিয়ে নাটোরের মুক্তিযোদ্ধা ও সুশীল সমাজের
প্রতিনিধিরা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন।
২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর হাইকোর্ট দেশের সব প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা থেকে স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম অপসারণের আদেশ দেন। এরই আলোকে গত ১৫ ডিসেম্বর মুসলিম লীগ নেতা রাজাকার আবদুস সাত্তার খান চৌধুরী মধু মিয়ার নামে নামকরণ করা শহরের ট্রাফিক মোড় থেকে হাসপাতাল রোডের এবং রাজাকার কছের উদ্দিনের নামে শহরের বড় হরিশপুর এলাকার চেয়ারম্যান সড়কের নামফলক ভেঙে ফেলা হয়। পরে দু'জন মুক্তিযোদ্ধার নামে ওই সড়ক দুটির নামকরণ করা হয়। কিন্তু গণভবনের মূল প্রাসাদে স্থাপিত মোনায়েম খানের নামফলকটি সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমতি না থাকায় অপসারণ করা যাচ্ছিল না।
মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক নবীউর রহমান পিপলু ও শেখ আলাউদ্দিন বলেন, দেরিতে হলেও ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনা থেকে কুখ্যাত স্বাধীনতাবিরোধীর নামফলক উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে মুক্তিযোদ্ধারা কৃতজ্ঞ থাকবেন।
নাটোরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ড. আজাদুর রহমান বলেন, উত্তরা গণভবনটি সংরক্ষিত স্থাপনা হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা ছাড়া জেলা প্রশাসন নামফলকটি অপসারণ করতে পারছিল না। নির্দেশনা আসায় আর কোনো সমস্যা নেই। রোববার মোনায়েম খানের নামফলক অপসারণ হয়ে যাবে।