ষোড়শ সংশোধনী ইস্যুতে উত্তপ্ত হতে পারে সংসদ

মুলতবি বৈঠক শুরু আজ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৭      

সমকাল প্রতিবেদক

টানা নয় দিন বিরতির পর সংসদের অধিবেশন আবার শুরু হচ্ছে আজ রোববার। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকেল ৫টায় বৈঠক শুরু হবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অপসারণ প্রক্রিয়া-সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে আজকের বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলে আভাস মিলেছে। এ ইস্যুতে উত্তপ্ত হতে পারে সংসদ। যদিও আজকের বৈঠকের কার্যসূচিতে এ-সংক্রান্ত আলোচনার কিছু নির্ধারিত নেই।
এর আগে ২৯ জুন ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট পাস হওয়ার পর সংসদের বৈঠক মুলতবি করা হয়। চলতি দশম সংসদের ১৬তম এই (বাজেট) অধিবেশন আগামী ১৩ জুলাই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মন্ত্রীদের জন্য প্রশ্ন জিজ্ঞাসা, কার্যপ্রণালির ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের ওপর আলোচনা ও স্থায়ী কমিটির রিপোর্ট সম্পর্কিত তিনটি বিল আজ বৈঠকে উত্থাপন করা হবে।
এসব নির্ধারিত কার্যসূচির বাইরেও সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে আজকের বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। কোনো সদস্য নোটিশ দিলে এ বিষয়ে সাধারণ আলোচনাও হতে পারে। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলে গত সোমবার আপিল বিভাগের রায় ঘোষণার পর সরকারি দলের কোনো নেতার পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি। যদিও মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দলের মন্ত্রী-এমপিদের এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজনে সংসদের বৈঠকে এ নিয়ে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া জানিয়েছেন, সংসদ সদস্যরা চাইলে
ষোড়শ সংশোধনী বাতিল ইস্যুতে সংসদে আলোচনা করতে কোনো বাধা নেই। তারা চাইলে গুরুত্বপূর্ণ যে কোনো ইস্যু নিয়ে সংসদে কথা বলতে পারেন। সরকার বা বিরোধীদলীয় সদস্যদের যে কেউ আলোচনার প্রস্তাব তুলতে পারেন।
১৯৭২ সালের সংবিধানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে থাকলেও ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ওই ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির কাছে চলে যায়। পরে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ওই ক্ষমতা দেওয়া হয় সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের হাতে। বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক অপসারণ প্রক্রিয়ায় আবারও সংসদের কর্তৃত্ব ফিরিয়ে আনে। এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন ৯ আইনজীবী। গত বছরের ৫ মে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যায় রাষ্ট্রপক্ষ। গত সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন খারিজ হয়ে যায়।
সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংসদের বৈঠকে সদস্যদের বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে দায়মুক্তি রয়েছে। সেই সুযোগ নিতে চান সংসদ সদস্যরা। সুনির্দিষ্ট কোনো বিধিতে এ বিষয়ে আলোচনা হবে কি-না তা স্পিকার নির্ধারণ করবেন। অতীতে অনির্ধারিত আলোচনায়ও এ ধরনের বিষয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে।
এর আগে হাইকোর্টের রায়ের পরে এই ইস্যুতে সংসদের বৈঠক উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল।