বাংলাদেশে গুম ও গোপন আটক নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর এ বিষয়ে সরকারের প্রতিবাদের জবাব দিয়েছে নিউয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডবি্লউ)। গত শুক্রবার এইচআরডবি্লউর ওয়েবসাইটে সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক মিনাক্ষী গাঙ্গুলীর লেখা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। যার শিরোনাম, 'না বাংলাদেশ, সত্য মানে নেতিবাচক প্রচারণা নয়'। প্রতিবেদনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কঠোর সমালোচনা করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে গুম ও গোপন আটক নিয়ে এইচআরডবি্লউ ৮২ পৃষ্ঠার রিপোর্ট প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল একে 'নেতিবাচক প্রচারণা' বলে দাবি করেন। স্বজনের অপেক্ষায় থাকা ভিকটিমের পরিবারগুলোর দাবি উপেক্ষা করে স্থানীয় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, 'কাকে আপনি গুম বা নিখোঁজ বলবেন? এখানে পাওনাদারের ঋণ না মেটাতে পেরে অনেক ব্যবসায়ী আত্মগোপনে যায়। এ ছাড়া বিবাহ-বহির্ভূত
সম্পর্কের ফলেও কেউ কেউ নিখোঁজ হন।'
রাষ্ট্রীয় বাহিনীর কোনো সদস্যের হাতে আটকের পর কেউ 'নিখোঁজ' হলে এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রত্যক্ষদর্শী বা স্বজনের সামনে থেকে র‌্যাব, ডিবি বা প্রশাসনের পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে কখন কীভাবে কোথা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পর ওই ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজ জানতে চাইলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের আটকের বিষয় অস্বীকার করেছে। এভাবে অবৈধভাবে কখনও সপ্তাহ বা মাসাধিককাল বিনা বিচারে আটকে রাখার পর তাদের কাউকে কাউকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। কাউকে মুখ বন্ধ রাখার হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আবার অনেককে তথাকথিত 'বন্দুকযুদ্ধের' নামে হত্যা করা হয়েছে এবং অনেকে এখনও নিখোঁজ আছেন।
কিন্তু তার পরও এসব ঘটনা তদন্তের কথা না বলে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা শীর্ষ ব্যক্তি হিসেবে আসাদুজ্জামান খান কামাল দাবি করেছেন, জাতিসংঘ কখনও এ ব্যাপারে তাদের কিছু বলেনি। কিন্তু এইচআরডবি্লউর দাবি, তাদের মতোই গুম নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘ ওয়ার্কিং গ্রুপের ক্ষেত্রেও বারবার অভিযোগগুলোর ব্যাপারে মন্তব্য করার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘও এ ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে বলেও উল্লেখ করে সংস্থাটি।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার 'তিনি আমাদের কাছে নেই : বাংলাদেশে গোপন আটক আর গুম' শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে এইচআরডবি্লউ। এতে বলা হয়, ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশে কয়েকজন বিরোধীদলীয় নেতাসহ কয়েকশ' মানুষ গুম বা গোপন আটকের শিকার হয়েছেন। শুধু ২০১৬ সালেই ৯০ জন গুম হয়েছেন। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে নিখোঁজ হয়েছেন ৪৮ জন। তথ্য থাকার দাবি করে সংস্থাটি বলছে, এ রকম ২১ জনকে পরে হত্যা করা হয়েছে বলে তারা জেনেছে। আর ৯ জনের কোনো তথ্য জানা যায়নি। এসব ঘটনার জন্য সংস্থাটি র‌্যাব ও ডিবি পুলিশকে দায়ী করে।
তবে এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, 'মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের সময়ও এইচআরডবি্লউ আমাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়েছে। তাদের বর্তমান প্রতিবেদনটিও সেই প্রচারণার অংশ।'
এ ছাড়া প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদেরও সমালোচনা করে এইচআরডবি্লউ।

মন্তব্য করুন