সিলেটে সাম্প্রতিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক ও মহাসড়ক। এসব সড়ক দ্রুত সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করে তোলার জন্য সিলেটের সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। শুক্রবার রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।
গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক সড়ক ও গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। বিশেষ করে সিলেট ও মৌলভীবাজারের সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সিলেটের বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ ও ওসমানীনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। একইভাবে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। বন্যার পানি কমতে থাকায় গতকাল থেকে মাঠে নেমেছেন সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা।
বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি জানান, বিয়ানীবাজার উপজেলার প্রায় ২৬ কিলোমিটার এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে সড়কের বেহাল অবস্থা। এ ছাড়া আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি উঠে সড়কের বেশ ক্ষতি হয়েছে।
ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ফেঞ্চুগঞ্জ, মাইজগাঁও, উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ, উত্তর কুশিয়ারা, ঘিলাছড়া ইউনিয়নে সড়কের বেশ ক্ষতি হয়েছে। পানি কমলে সওজ ও এলজিইডির কর্মকর্তারা ক্ষতি নিরূপণে মাঠে নামবেন বলে জানিয়েছেন। সওজের বেশির ভাগ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন স্থানে সড়ক ভেঙে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। একইভাবে সিলেটের ওসমানীনগর ও মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ভেঙে যায় বলে জানা গেছে।
বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত এক সপ্তাহ গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের প্রত্যন্ত অঞ্চল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকার প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে গ্রামীণ সড়কগুলো বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব সড়কে যানবাহন চলতে গেলেও উল্টে দুর্ঘটনা ঘটবে। জরাজীর্ণ সড়কে মানুষের চলাচলে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হবে। তাই সময় ক্ষেপণ না করে দ্রুত সংস্কার করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।
এ ব্যপারে সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী উৎপল সামন্ত জানান, বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। পানি পুরোপুরি কমলে ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে। তিনি জানান, বিয়ানীবাজারের ২৬ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া সিলেটের অন্যান্য এলাকার সড়কগুলোর ক্ষতি নিরূপণে তাদের কর্মকর্তারা মাঠে রয়েছেন।

মন্তব্য করুন