সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প

চুক্তি করতেই গেল ৫ বছর

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৭      

সমকাল প্রতিবেদক

জমির কোনো সমস্যা নেই। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণচুক্তি সই হয়েছে ২০১২ সালে। কিন্তু ৭ মেগাওয়াটের এই কেন্দ্রের নির্মাণ চুক্তি করতেই বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সময় নিয়েছে পাঁচ বছর। অবশেষে আজ রোববার একটি চীনা কোম্পানির সঙ্গে কেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি করতে যাচ্ছে পিডিবি। তবে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বেশি ধরা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাইয়ে ৫ থেকে ৭ মেগাওয়াটের একটি গ্রিড সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় ২০১১ সালের দিকে। ২০১২ সালে ৪ জানুয়ারি এডিবির সঙ্গে ঋণচুক্তি সই হয়। এডিবি এই প্রকল্পর জন্য ২২ দশমিক ১১ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে। এই ঋণে সুদের হার দশমিক ৬০ শতাংশ। ঋণ পরিশোধ করতে হবে ২০ বছরে।
কিন্তু গত পাঁচ বছরে প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি ছিল শূন্য। প্রাতিষ্ঠানিক অদক্ষতার কারণে প্রকল্পটি সময়মতো বাস্তবায়ন করা যায়নি বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
এদিকে দীর্ঘসূত্রতার পর প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি হলেও বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সারাবিশ্বে যখন সৌরবিদ্যুতের দাম কমতে শুরু করেছে, তখন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির উৎপাদন খরচ ধরা হয়েছে প্রতি ইউনিটে ১৭ টাকা ১৫ পয়সা। যেখানে এর আগে কয়েকটি বেসরকারি উৎপাদনকারী কোম্পানির সঙ্গে ১৩ টাকা ৬০ পয়সায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের চুক্তি করেছে পিডিবি। অর্থাৎ, বেসরকারি উদ্যোক্তাদের চেয়ে ইউনিটপ্রতি ৩ টাকা ৫৫ পয়সা বেশি দামে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাচ্ছে পিডিবি ।

এসডিজি অর্জনের ক্ষেত্রে দেশের মোট বিদ্যুতের ১০ ভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস থেকে উৎপাদনের শর্ত দেওয়া হয়েছে। সেই হিসেবে সরকার ২০২০ সালের মধ্যে ২ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে চায়। কিন্তু চুক্তি হলেও এখন পর্যন্ত গ্রিড সংযুক্ত কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।