সাংবাদিক আশিকের মুক্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৭      

সমকাল প্রতিবেদক

ডেইলি অবজারভারের ফটোসাংবাদিক আশিক মোহাম্মদকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিকরা। এ দাবিতে গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা। 'পকেটে ইয়াবা দিয়ে' আশিককে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযোগ এনে সাংবাদিক নেতারা বলেন, বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে তাকে মুক্তি না দিলে পল্টন থানা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করা হবে।
এদিকে, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি)
এ কে এম শহীদুল হক গতকাল
বলেছেন, আশিককে গ্রেফতারের ঘটনায় পুলিশের দায় থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ২৭ জুন রাতে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকা থেকে আশিককে আটক করে পল্টন থানা পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, আটকের পর পুলিশ তাকে ছেড়ে দিতে এক লাখ টাকা ঘুষ চায়। না দিলে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন পল্টন থানার সহকারী উপপরিদর্শক আশরাফ আলী। ঘুষের টাকা না পেয়ে আশিককে নির্যাতন চালিয়ে পরের দিন সকালে ১০ পিস ইয়াবা দিয়ে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
গতকাল সমকালের প্রথম পাতায় 'এক লাখ টাকা দে, নইলে ইয়াবায় ফেঁসে যাবি' শিরোনামে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ওই সাংবাদিককে গ্রেফতার ও পুলিশের ভূমিকার বিস্তারিত তথ্য উঠে আসে। অবশ্য অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা আশরাফ আলী ঘুষ চাওয়া ও নির্যাতনের কথা অস্বীকার করেন।
আশিককে 'ইয়াবায় ফাঁসিয়ে' গ্রেফতারের প্রতিবাদ ও তার মুক্তির দাবিতে গতকাল বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন সাংবাদিকরা। এতে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নেতৃবৃন্দসহ শতাধিক সাংবাদিক অংশ নেন।
সমাবেশে বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব পুলক ঘটক বলেন, কয়েকজন টহল পুলিশের সঙ্গে কথা কাটাকাটির জেরে আশিককে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তার পকেটে ১০টি ইয়াবা দিয়ে মাদকের মামলা দেয় পুলিশ।
ডিইউজে সভাপতি শাবান মাহমুদ বলেন, আশিককে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে মুক্তি না দিলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দেব।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে ডিইউজে সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, ডিআরইউ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, সাধারণ সম্পাদক মোরসালিন নোমানীসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।
এদিকে আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক বলেছেন, ফটোসাংবাদিক আশিক মোহাম্মদকে গ্রেফতারের ঘটনায় যদি পুলিশের কোনো দায় থাকে, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের কেউ জড়িত থাকলে কঠোর শাস্তি পেতে হবে।
গতকাল দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মাদকবিরোধী এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন আইজিপি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশও দেন তিনি।
দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে
মামলা প্রত্যাহার দাবি
অবজারভারের ফটোসাংবাদিক আশিক মোহাম্মদের বিরুদ্ধে মাদক ও সকালের খবরের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আজমল হক হেলালের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। গতকাল এক যৌথ বিবৃতিতে বিএফইউজে সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল ও মহাসচিব ওমর ফারুক এবং ডিইউজে সভাপতি শাবান মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী নিন্দা জানিয়ে মামলা দুটি প্রত্যাহারের দাবি জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নানাভাবে সাংবাদিকদের হয়রানি ও নির্যাতন করছে, যা সাংবিধানিকভাবে মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের শামিল। এ ধরনের ঘটনা সাংবাদিকদের সঙ্গে সরকার ও প্রশাসনের দূরত্ব এবং পারস্পরিক সংকট সৃষ্টি করবে। আশিক ও আজমলের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারে দাবিতে আজ রোববার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের কথাও এতে জানানো হয়।