নেতারা ভাগাভাগি করে নিলেন ৫৩ কমিটি

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৭      

তৌফিকুল ইসলাম বাবর, চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের প্রায় সব কমিটিই 'ভাগাভাগি' হয়ে গেছে। নির্বাচন সামনে রেখে চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় চার বিএনপি নেতা ৫৬টি কমিটি নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। দু'একদিনের মধ্যেই কমিটিগুলো ঘোষণা করা হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ১৫টি থানা ও ৪১টি ওয়ার্ড কমিটি। বিএনপির ওই চার নেতা হলেন_ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান, আবদুল্লাহ আল নোমান ও নগর বিএনপি সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন।
২০০৮ সালের নির্বাচনে বন্দর নগরীর চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে নির্বাচন করেছেন আমীর খসরু, মোরশেদ খান ও নোমান। একটি আসনে নির্বাচন করেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য শিল্পপতি শামসুল আলম। কিন্তু অনেক দিন ধরে মাঠে নেই তিনি। তার আসনটি নিজের করে সাজাচ্ছেন নগর বিএনপি সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে আসনটি থেকে মনোনয়ন চাইবেন তিনি। নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির ওই চার নেতা পছন্দের লোকদের দিয়ে নিজ নিজ আসনের অন্তর্ভুক্ত ওয়ার্ড ও থানা কমিটিগুলো গঠন করে দিচ্ছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে নগরীর ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ও ২ নম্বর জালালাবাদ ওয়ার্ড। এ আসনে নির্বাচন করেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম চৌধুরী। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে নগরীর ৯ নম্বর কাট্টলী ও ১০ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ড। এ আসনে নির্বাচন করেন বিএনপি নেতা সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম। ওই চারটি ওয়ার্ডেও সংশ্লিষ্ট দুই নেতার সঙ্গে আলোচনা করে কমিটি করছে নগর বিএনপি।
জানা গেছে, কমিটি গঠনের দায়িত্ব নগর বিএনপির হলেও বিবাদ এড়াতেই 'কমিটি ভাগাভাগি' করে দেওয়া হচ্ছে। চার নেতা কমিটি করে দিয়ে নগর বিএনপিকে তালিকা দিচ্ছেন। সেই তালিকা অনুমোদন দিচ্ছে নগর বিএনপি! এ নিয়ে সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো নেতাকর্মী এটাকে সিনিয়র নেতাদের কমিটি গঠনকেন্দ্রিক বিভক্তি দূর করার 'টনিক' হিসেবে দেখলেও অনেকেই এর ঘোর বিরোধিতা করছেন। যে প্রক্রিয়ায় কমিটি করা হচ্ছে, তাতে দলের তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
কমিটি গঠনের প্রথম পর্যায়ে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হচ্ছে। গতকাল শনিবারই পূর্ণাঙ্গ কমিটি চূড়ান্ত করা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অনুমোদন দেওয়ার পর দু'একদিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিটি ঘোষণা করা হবে। পূর্ণাঙ্গ কমিটির পাশাপাশি থানা কমিটিগুলোও প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ জন্য ঢাকায় নগর বিএনপি সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করকে নিয়ে শুক্রবার ও গতকাল শনিবার দফায় দফায় রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মো. শাহজাহান ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান শামীম। এর আগে কমিটি ঝুলে থাকায় বিএনপির থানা পর্যায়ের কয়েক নেতা বৃহস্পতিবার বনানীস্থ সেরিনা হোটেলে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এরও আগে গত ১৮ মে একই বিএনপি নেতারা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করে কমিটি গঠনের অনুরোধ জানান।
নগরীতে ১৫টি থানা থাকলেও তিনটি থানায় আপাতত কমিটি হচ্ছে না। এগুলো হলো_ চকবাজার থানা, সদরঘাট থানা ও আকবর শাহ থানা। অবশিষ্ট ১২টি সাংগঠনিক থানায় কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।
ডা. শাহাদাত হোসেন সমকালকে বলেন, 'বিএনপি নির্বাচনে গেলে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি-বাকলিয়া আসন থেকে মনোনয়ন চাইব। তাই এ এলাকার ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করে কমিটিগুলো গঠন করা হচ্ছে।'
আবদুল্লাহ আল নোমান সমকালকে বলেন, 'নগর বিএনপি নেতারা আমার আসনের অন্তর্ভুক্ত এলাকায় বিএনপির কমিটিগুলো করতে আমার কাছ থেকে নাম ও পরামর্শ চেয়েছেন। আমি তাদের সে অনুযায়ী পরামর্শ দিয়েছি। এর ভালো-মন্দ দুটো দিকই রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, আমরা ভালো কমিটি চাই।'
২০১৬ সালের ৬ আগস্ট ডা. শাহাদাত হোসেনকে সভাপতি, আবুল হাশেম বক্করকে সাধারণ সম্পাদক ও আবু সুফিয়ানকে সহসভাপতি করে নগর বিএনপির কমিটি করা হয়। সভাপতি-সম্পাদকের দ্বন্দ্ব ও সিনিয়র নেতাদের মতবিরোধের কারণে বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নেওয়া হলেও কমিটির পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া যায়নি।