প্রি-একলামসিয়া ও করণীয়

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০১৭

ডা. লুৎফা বেগম লিপি, কনসালট্যান্ট, গাইনি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

গর্ভাবস্থার একটি জটিল সমস্যা প্রি-একলামসিয়া। সাধারণত গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ থাকলে এবং প্রস্রাবের সঙ্গে প্রোটিন বের হলে একে প্রি-একলামসিয়া বলে। চোখে ঝাপসা দেখা, মাথাব্যথা, ঘাড়ব্যথা ইত্যাদি প্রি-একলামসিয়ার লক্ষণ। প্রথমবার গর্ভধারণের সময় এটি হওয়ার আশঙ্কা খুব বেশি থাকে। ২০ বছরের নিচে এবং ৪০-৪৫ বছরের ওপরে যাদের বিয়ে হয়, তাদের ক্ষেত্রে এটি হওয়ার আশঙ্কা খুব বেশি। যাদের যমজ বাচ্চা হয়, তাদের ক্ষেত্রেও এই রোগ হতে পারে। এ ছাড়া আগের গর্ভাবস্থায় এবং অন্য সময় উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে প্রি-একলামসিয়া হওয়ার আশঙ্কা বেশি। এই ঝুঁকির পাশাপাশি অতিরিক্ত ওজন থাকলেও এ সমস্যা
দেখা দিতে পারে। এ থেকে মৃত্যুও হতে পারে। তাই প্রি-একলামসিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব জরুরি। এটি অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় চলে গেলে মাথা থেকে পা পর্যন্ত যে কোনো অঙ্গকে জড়িয়ে ফেলতে পারে। মাথায় খিঁচুনি হতে পারে। খিঁচুনি হওয়া মানে, তার নিজের যেমন ক্ষতি, গর্ভের বাচ্চারও ক্ষতি হবে। অনেক সময় চোখে কম দেখা, এমনকি অন্ধত্ব পর্যন্ত হতে পারে। লিভার, হার্ট ও ফুসফুস ফেইলিওর হতে পারে। মাল্টি সিস্টেম অরগানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আরেকটি প্রচলিত সমস্যা হলো হেল্প সিনড্রম। এই রোগে আক্রান্তের রক্ত যেমন একদিকে কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে লিভার এনজাইম বেড়ে যাচ্ছে। রক্তের প্লাটিলেট কমে যায়। মাতৃমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ প্রি-একলামসিয়া। তাই আক্রান্ত নারীকে সঙ্গে সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করাবেন, ভালো থাকুন।