আইএমএফও সহায়তা দিতে চায়

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০১৭

বিশেষ প্রতিনিধি


বিশ্বব্যাংকের পর এবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা দিতে চায়। গতকাল ওয়াশিংটনে এশিয়ার অর্থনীতির ওপর এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের উত্তরে সংস্থার ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা এ আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। আইএমএফের ওয়েবসাইটে সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নোত্তর প্রকাশিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানতে চাওয়া হয়েছিল, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রবেশের ফলে দেশটির অর্থনীতির ওপর কী প্রভাব পড়বে? জবাবে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের উপপরিচালক কেনেথ ক্যাং বলেন, এই মূল্যায়ন করার সময় এখনও আসেনি। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে তাদের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। যদি দরকার হয় তাহলে আইএমএফ এ ব্যাপারে বাংলাদেশকে সহায়তা দেবে। তবে এ সহায়তার ধরন বা পরিমাণ সম্পর্কে তিনি কিছু বলেননি।
এর আগে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভা চলাকালে গত বুধবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। বিশ্বব্যাংকের শরণার্থী সংক্রান্ত যে তহবিল রয়েছে, তা থেকে কোনো দেশ সর্বোচ্চ ৪০ কোটি ডলার (৩২০০ কোটি টাকা) পেতে পারে। এ সহায়তার পুরোটা অনুদানও হতে পারে অথবা অর্ধেক ঋণ ও অর্ধেক অনুদান হতে পারে। তবে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের শরণার্থী
হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় এ ঋণ গ্রহণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। কারণ, বিশ্বব্যাংকের এ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত শরণার্থীদের জন্য।
বিশ্বব্যাংকের আইডিএ-১৮ প্যাকেজের আওতায় শরণার্থীদের সহায়তার জন্য ২০০ কোটি ডলার তহবিল রয়েছে। যে দেশে শরণার্থীর সংখ্যা ২৫ হাজারের বেশি তারা চাইলে এ তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ৪০ কোটি ডলার সহায়তা পেতে পারে। বাংলাদেশে এখন রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা এর অনেক বেশি। ফলে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সহায়তা পেতে পারে।
আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে চলতি বছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ১ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে, যা চীন ও ভারতের চেয়ে বেশি। এ বছর ভারতের ৬ দশমিক ৭ শতাংশ ও চীনের ৬ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশে চলতি অর্থবছরে সরকার ৭ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। গত অর্থবছরে ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে সাময়িক হিসাব করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। বিশ্বব্যাংকের মতে, চলতি অর্থবছরে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। এডিবির পূর্বাভাস হলো, প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ।