বাংলাদেশের ১২ লাখ মানুষ বসতি হারানোর ঝুঁকিতে

প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে জাতিসংঘের জরিপ

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০১৭

সমকাল ডেস্ক


বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতি বছর প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ মানুষ গৃহহারা হচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের ১২ লাখ মানুষও বসতি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। 'আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস' উপলক্ষে গত শুক্রবার জাতিসংঘ উদ্বেগজনক এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
যৌথভাবে এ জরিপ পরিচালনা করেছে জাতিসংঘ দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন দপ্তর (ইউএনআইএসডিআর) এবং নরওয়ে রিফিউজি কাউন্সিলের অভ্যন্তরীণ গৃহহারাদের পুনর্বাসন সম্পর্কিত মনিটরিং সেন্টার (আইডিএমসি)। এবারই প্রথম বিশ্বব্যাপী মানব-সংকটের ওপর জাতিসংঘ এ ধরনের তথ্য প্রকাশ করল।
জাতিসংঘের এই জরিপ সম্বন্ধে ইউএনআইএসডিআরের ওয়েবসাইট প্রিভেনশন ওয়েব ডটনেট ও নিউইয়র্ক থেকে এনআরবি নিউজের খবরে বলা হয়, ২০৪ দেশ ও টেরিটরির মধ্যে প্রতি ১০ দেশের ৮টিতেই বিপুল জনগোষ্ঠীর গৃহহারা হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতেও বাস্তুহারা মানুষের
সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়বে। বাংলাদেশে ১২ লাখ, ভারতে ২৩ লাখ, চীনে ১৩ লাখ, ভিয়েতনামে ১০ লাখ, ফিলিপাইনে ৭ লাখ ২০ হাজার, মিয়ানমারে ৫ লাখ ৭০ হাজার, পাকিস্তানে ৪ লাখ ৬০ হাজার, ইন্দোনেশিয়ায় ৩ লাখ ৮০ হাজার, রাশিয়ায় ২ লাখ ৫০ হাজার এবং যুক্তরাষ্ট্রে ২ লাখ ৩০ হাজার মানুষ উদ্বাস্তু হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিবের দুর্যোগ হ্রাস সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিনিধি রবার্ট জ্ঞ্নাসার বলেন, 'গৃহহারার সংখ্যা হ্রাসে প্রয়োজনীয় কর্ম-কৌশল অবলম্বন করতে হবে। মনোযোগী হতে হবে দুর্যোগের ঝুঁকি কমানোর বিষয়ে। পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানির পাশাপাশি বসতবাড়ি নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়ার ঘটনা কম বেদনাদায়ক নয়। নতুন করে বসতি গড়া অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতির অবসানে জাতিসংঘ সংস্থাগুলোকে সরব থাকতে হবে।
এই জরিপের উদ্যোগ নেওয়া হয় দু'বছর আগে জাতিসংঘ সদস্য-সংস্থাগুলোর সম্মিলিত সিদ্ধান্তের আলোকে। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের স্বার্থে নানাবিধ দুর্যোগ মোকাবেলায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে সমগ্র জনগোষ্ঠীকে উদ্বুদ্ধ করতে এমন তথ্য প্রকাশের বিকল্প ছিল না বলেও জাতিসংঘ কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন। হারিকেন, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস ও বন্যার কবল থেকে বাড়িঘর রক্ষা করা সম্ভব হয়- এমন প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাতে সংশ্নিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।