গ্রামীণফোন নৌকাবাইচ

গ্রামীণফোন নৌকাবাইচ

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০১৭

খুলনা ব্যুরো


বাঁশি-কাঁসা-করতালের তালে তালে বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ আর মাল্লাদের কোরাস 'হেঁইও... হেঁইও।' সব ছাপিয়েও ভেসে আসছিল রূপসা নদীর দুই পাড়ে লাখো মানুষের হর্ষধ্বনি। বাইচের নৌকার পাশাপাশি এগোচ্ছিল ইঞ্জিনচালিত নৌকাও। সেসব নৌকার যাত্রীরাও মেতে উঠেছিলেন উল্লাসে। সব মিলিয়ে গতকাল শনিবার ছিল খুলনাবাসীর জন্য অন্যরকম এক আনন্দঘন দিন। গ্রামীণফোনের আর্থিক সহায়তায় খুলনা নগর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র রূপসা নদীতে এই বাইচের আয়োজন করে। বাইচ শুরুর আগেই রূপসা সেতুসহ নদীর দুই তীর মানুষে ভরে যায়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই ভিড় বাড়তে থাকে। দুপুর আড়াইটায় রূপসা নদীর ১ নম্বর কাস্টমঘাট থেকে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে খানজাহান আলী সেতু এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। দুপুরে কাস্টমঘাটে বাইচের উদ্বোধন করেন খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজানসহ অন্য অতিথিরা।
এ বছর প্রতিযোগিতায় কয়রা, পাইকগাছা, তেরখাদা, কালিয়া, নড়াইল, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও ফরিদপুর থেকে মোট ৩২টি বাইচ দল অংশগ্রহণ করছে। নৌকার মাপভেদে বাইচকে তিনটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে।
বড় নৌকা গ্রুপের নৌকাবাইচে প্রথম হয়েছে খুলনার কয়রা উপজেলার সুন্দরবন টাইগার, দ্বিতীয় হয়েছে তেরখাদা উপজেলার ভাই ভাই জলপরী এবং তৃতীয় হয়েছে গোপালগঞ্জের সোনার তরী। প্রথম বিজয়ীকে এক লাখ টাকা, দ্বিতীয়কে ৬০ হাজার ও তৃতীয়কে ৩০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়।
ছোট নৌকা গ্রুপে প্রথম হয়েছে খুলনার কয়রা উপজেলার সোনার তরী, দ্বিতীয় হয়েছে পাইকগাছা উপজেলার রিয়া নৌকাবাইচ এবং তৃতীয় হয়েছে সাতক্ষীরার জয় মা কালী। এই গ্রুপের প্রথমকে ৫০ হাজার, দ্বিতীয়কে ৩০ হাজার টাকা ও তৃতীয়কে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
বিশেষ গ্রুপে প্রথম হয়েছে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার মা গঙ্গা, দ্বিতীয় হয়েছে মাদারীপুরের মা দুর্গা ও তৃতীয় হয়েছে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার সোনার তরী। এই গ্রুপের প্রথমকে ৫০ হাজার, দ্বিতীয়কে ৩০ হাজার ও তৃতীয়কে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন সিনিয়র সহকারী সচিব বিল্লাল হোসেন খান, কেসিসির শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অফিসার এস কে এম তাসাদুজ্জামান, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির ক্রীড়া সল্ফপাদক খালেক শিকদার, প্রচার সল্ফপাদক মিজানুর রহমান জিয়া, জেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সল্ফপাদক মো. মোতালেব মিয়া ও সমাজ সেবক
মনিরুজ্জামান সাগর।
এর আগে বাইচ উপলক্ষে বেলা ১১টায় নগরীতে শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় অংশ নেন বিসিবি পরিচালক শেখ সোহেল, খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সরদার আনিসুর রহমান পপলু, গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল ভন, হেড অব মার্কেটিং সোলায়মান আলম, গ্রামীণফোনের খুলনা সার্কেল প্রধান মোল্লা নাফিজ ইমতিয়াজ, খুলনা সার্কেলের হেড অব মার্কেটিং পার্থপ্রতিম ভট্টাচার্য্য, মিডিয়া রিলেশনস স্পেশালিষ্ট তানভীর আহমেদ, নগর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উপদেষ্টা শেখ আশরাফ-উজ-জামান, সভাপতি মোল্লা মারুফ রশীদ, সাধারণ সল্ফপাদক মনিরুজ্জামান রহিম, খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।
নৌকাবাইচের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৭টায় রূপসা ফেরিঘাটে অনুষ্ঠিত হয়। বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সিটি মেয়র মনিরুজ্জামান মনি। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।