স্কুলছাত্রীর আত্মহনন

তেঁতুলিয়ায় পাঁচ দিন পর প্ররোচনা মামলা

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০১৭

পঞ্চগড় প্রতিনিধি


ধর্ষণের ভিডিওচিত্র ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিতে গত মঙ্গলবার রহিমা আক্তার সোনিয়া নামে নবম শ্রেণির এক ছাত্রী আত্মহত্যা করে। ঘটনার পরদিন বুধবার দুই বখাটেকে অভিযুক্ত করে তেঁতুলিয়া থানায় ধর্ষণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার লিখিত অভিযোগ দেয় সোনিয়ার মা সেলিনা বেগম; কিন্তু ইউডি মামলা নথিভুক্তের অজুহাত দেখিয়ে টালবাহানা শুরু করে পুলিশ। অবশেষে গতকাল শনিবার ঘটনার পাঁচ দিন পর মামলাটি নথিভুক্ত করে পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ধর্ষক রাজন ও আতিক পলাতক রয়েছে।
তিন মাস আগে উপজেলা সদরের কাজী শাহাবুদ্দিন বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী সোনিয়াকে ধর্ষণ করে রাজন ও আতিক। রাজন তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওয়ার্ড বয় এবং আতিক একটি মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানির স্থানীয় এজেন্ট। তারা কৌশলে ধর্ষণের চিত্র ভিডিও করে রাখে। ফেসবুকে সেই ভিডিও ফুটেজ প্রচারের ভয় দেখিয়ে সোনিয়াকে কয়েক দফায় ধর্ষণ করে তারা। এক পর্যায়ে সোনিয়া বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়। এতেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় মঙ্গলবার আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় সে।
সোনিয়ার মামা ফারুক হোনের বলেন, 'ঘটনার দিনই আমরা থানায় গিয়েছিলাম মামলা দিতে। ওসি আমাদের বলেছেন, ময়নাতদন্তের পর প্রয়োজনে মামলা নেওয়া হবে। পরদিন বুধবার আবারও থানায় যাই। ২-৩ ঘণ্টা থাকার পর তিনি আবারও বলেন, ময়নাতদন্ত ছাড়া মামলা নেওয়া যাবে না। এরপর থেকে প্রতিদিন আমরা থানায় ঘুরতে থাকি মামলার জন্য।'
তেঁতুলিয়া থানার ওসি সুরেশ চন্দ্র বলেন, প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়। পরবর্তী সময়ে তদন্তে বেরিয়ে আসে আতিক ও রাজন মেয়েটিকে ধর্ষণ করে নানা হুমকি-ধমকি দিয়েছে। এজন্য সে আত্মহত্যা করেছে।
এ ধরনের তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে গতকাল সকালে দুই ধর্ষকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।