নির্বাচন নিয়ে গঠনতন্ত্র লগ্ধঘনের অভিযোগ

রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০১৭

রাজশাহী ব্যুরো


রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের হঠাৎ করে ঘোষিত ত্রিবার্ষিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফের শ্রমিকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও উত্তেজনা। গঠনতন্ত্র লগ্ধঘন করে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যদের নিয়োগ দেওয়াসহ ভোটার তালিকা নিয়েও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। এর ফলে বিতর্কিত এ নির্বাচন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন শ্রমিকরা।
সূত্রমতে, গত ৬ অক্টোবর রাজশাহী শ্রম অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আলমগীর কুমকুম নিজেই নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের তফসিল ঘোষণা করেন। মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র লগ্ধঘন করে শ্রম অধিদপ্তর থেকে ১৭ অক্টোবর
এ নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয়। গঠনতন্ত্রে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে কোনো সরকারি কর্মকর্তা নির্বাচন কমিশন বা চেয়ারম্যান হওয়ার যোগ্য নন বলে উল্লেখ থাকলেও শ্রম অধিদপ্তরের ওই কর্মকর্তা নিজেই নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান পদে আদিষ্ট হয়েছেন। আবার ভোটার তালিকায় যারা ভোটার হওয়ার যোগ্য নন, এমন ২২২ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া যারা নিয়মিত মাসিক চাঁদা পরিশোধ করেন, এমন ৬৬ জনকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মৃত তিন ব্যক্তিকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আবার তড়িঘড়ি করে মাত্র দু'দিনের সময় দেওয়া হয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিলের জন্য। ৮ অক্টোবর মনোনয়নপত্র দাখিল ও সংগ্রহের দিন ধার্য ছিল। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১১ অক্টোবর। এ নির্বাচনের ব্যয় ধরা হয়েছে আট লাখ ২২ হাজার ৫০০ টাকা। মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের এ ব্যয় নির্বাহের কথা থাকলেও জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কাছে এ টাকা চাওয়া হয়নি।
মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক কামাল হোসেন রবি অভিযোগ করে জানান, মাহতাব হোসেন চৌধুরীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে তড়িঘড়ি করে এ নির্বাচন করছে শ্রম অধিদপ্তর। এ জন্য অযোগ্যদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর যারা নিয়মিত মাসিক চাঁদা পরিশোধ করে আসছে, তাদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আমরা দাবি জানাচ্ছি, বিতর্কিত এ নির্বাচন বাতিল করে শ্রমিক ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন দেওয়া হোক।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের রাজশাহী বিভাগীয় আঞ্চলিক কমিটির সচিব অরুণ সরকার সনু বলেন, 'গোপনে এত তড়িঘড়ি নির্বাচন দেওয়ায় শ্রমিকরা অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেননি। অনেকেই মনোনয়ন ফরম পর্যন্ত তুলতে পারেননি। এ নির্বাচন আরেকটু সময় নিয়ে ভোটার তালিকা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সংশোধন করে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।'
এ বিষয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তরের উপ-শ্রম পরিচালক আলমগীর কুমকুম বলেন, 'বিষয়টি এখন আদালতের। কাল (রোববার) এ বিষয়ে আমাকে আদালতে জবাবদিহি করতে হবে। তখনই এ বিষয়ে আপনারা বিস্তারিত জানতে পারবেন।'
জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা মাহতাব হোসেন চৌধুরী বলেন, 'আইন অনুযায়ী নির্বাচন হচ্ছে। যারা জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে, তারা এই নির্বাচন ভন্ডুল করতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। শ্রম অধিদপ্তর থেকে অনুমতি নিয়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ কারণে আমরা প্রার্থী হয়েছি।'