মহেষখালীতে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৯

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০১৭

মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিনিধি


মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়ায় পুলিশের সঙ্গে জনতার সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় পুলিশের গুলিতে পথচারীসহ ৯ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। অন্যদিকে স্থানীয়দের হামলায় পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। গত শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনার সময় রিভলবারের গুলিভর্তি একটি ম্যাগাজিন লুট হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
আহতরা হলেন ইউনিয়নের ফকিরজোমপাড়ার টুনু মিয়ার ছেলে আবদু শুক্কুর, সোনারপাড়ার বদিউজ্জামানের ছেলে আবদুর রহিম, হোয়ানকের হরিয়ারছড়ার নজু মিয়ার ছেলে আবদসু সালাম, পথচারী আবদুর শুক্কুর, নয়াপাড়ার আবদুল হাকিমের ছেলে শহীদুল্লাহ ও অফিসপাড়ার মো. ছবির ছেলে বোরহান উদ্দীন। এ ছাড়া আরও তিনজন চকরিয়া একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের পরিচয় জানা যায়নি।
এ ব্যাপারে কালারমারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) রাজু জানান, সিএনজির অবৈধ টোল আদায় নিয়ে মারামারির ঘটনায় স্থানীয় শ্রমিক নেতা গোলাম মোস্তফাসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। ওই মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে মোস্তফাসহ দু'জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে ছিনিয়ে নিতে স্থানীয় চেয়ারম্যান তারেকের নেতৃত্বে প্রায় পাঁচশ' লোক জড়ো হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়ে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালীরা এএসআই অহিদুর রহমানসহ অপর দুই কনস্টেবল হানিফ, রায়হানকে প্রহার করে আসামি ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালায়। পুলিশের দাবি- একটি গুলিভর্তি ম্যাগাজিন লুট করেছে স্থানীয়রা। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
চেয়ারম্যান তারেক শরীফ জানান, পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ একদল পুলিশ নিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা না থাকা সত্ত্বেও কালারমারছড়া ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি মোস্তফাকে গ্রেফতার করতে আসেন। ওই সময় মোস্তফা বাজারে ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। তাকে আটক করতে গিয়ে পরিষদের জানালা ও বিভিন্ন জিনিস ভাংচুর করে পুলিশ। ওই সময় পরিষদে ছিলেন না তিনি। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। এ সময় পরিষদে ভাংচুর নিয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ রাজুর সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তার সঙ্গে অসদাচরণ করেন পুলিশ কর্মকর্তা। এ খবর পেয়ে এলাকার শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
চেয়ারম্যান তারেক দাবি করেন, লোকজন ছুটে আসায় আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন উপপরিদর্শক রাজু। একপর্যায়ে তিনি আমাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। তবে গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর শত শত লোককে লক্ষ্য করে নির্বিচারে আরও গুলি ছোড়েন পুলিশ সদস্যরা। এতে ৯ জন গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের কক্সবাজার ও চকরিয়ার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান চেয়ারম্যান তারেক।