৪৭ ঠিকাদারের সঙ্গে পাউবোর চুক্তি বাতিল

হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি ও গাফিলতি

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০১৭

পঙ্কজ দে, সুনামগঞ্জ


সুনামগঞ্জের ৩৬টি হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে গাফিলতি, দুর্নীতি ও চুক্তি অনুযায়ী কাজ না করায় সুনামগঞ্জ পাউবোর ৪৭ ঠিকাদারের সঙ্গেই চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। গত বুধবার পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এই চুক্তি বাতিল করে। এই ঠিকাদারদের সবাই দুদকের মামলার আসামি। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) ও পাউবোর তদারক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, সব আইন-কানুন মেনে ঠিকাদার, পিআইসি ও পাউবোর তদারক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে পাউবো এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে বিগত মৌসুমের বাঁধের কাজ পরিমাপ করার জন্য চারটি টিম, একজন যুগ্ম সচিবসহ পাঁচ কর্মকর্তার নেতৃত্বে আলাদা তদারক টিম সম্প্রতি গঠন করা হয়েছে। এই টিমগুলো পুরো হাওরাঞ্চলে গত মৌসুমে কোথায় কতটুকু বাঁধ হয়েছিল, তা পরিমাপের কাজ করবে।
পাউবোর একজন কর্মকর্তা জানান, জেলার ১১ উপজেলার ৩৬টি হাওরের ১৬০টি প্যাকেজের ৪৭ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে গত ৩১ আগস্ট কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। চিঠির জবাব দেওয়ার জন্য ২৮ দিন সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। চিঠি পৌঁছার পর সব ঠিকাদারকেই জবাব দেওয়ার জন্য ২৮ দিন সময় দেয় পাউবো। জবাব গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় ৪৭ ঠিকাদারের সঙ্গেই গত বুধবার চুক্তিপত্র বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয় পাউবো।
পাউবোর ওই কর্মকর্তা জানান, ঠিকাদারদের সঙ্গে চুক্তিপত্র বাতিল করার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য পানি নেমে যাওয়ার পর ঠিকাদারদের কর্মএলাকায় গিয়ে স্থানীয় কৃষকসহ গণমান্যদের উপস্থিতিতে তারা কী পরিমাণ কাজ করেছিল, তা পরিমাপ করবেন একজন সহকারী প্রকৌশলী এবং একজন সার্ভেয়ারের নেতৃত্বে চারটি টিম।
এই টিমগুলোতে পর্যাপ্ত লোকবল থাকবে। একসঙ্গে আগামী বোরো ফসল রক্ষায় কোথায় কী করতে হবে, তারও পরিকল্পনা করতে সহায়তা করবে এই টিমগুলো। তারা গত মৌসুমে পিআইসির করা বাঁধের কাজের পরিমাপ এবং ঠিকাদার ও পিআইসির কাজের তদারককারীরা কী দায়িত্ব পালন করেছেন, সেই তথ্যও সংগ্রহ করবেন। পাউবো ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে গঠিত এই কাজের তদারক টিমের প্রধান করা হয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নূজহাত ইয়াসমিনকে।
পাউবোর সুনামগঞ্জের
বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া বলেন, 'গত বছর বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রায় ৮০ কোটি টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। এ সময় ২৫ কোটি টাকার বিল দেওয়া হয়েছিল। পরিমাপ করা শেষে পিআইসিরা কাজ না করে বিল নিয়ে থাকলে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য সার্টিফিকেট মামলা হবে। ঠিকাদার যারা কাজ করেননি, তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। দেশের অন্য কোথাও তারা কাজ করে থাকলে, সেই কাজের বিল থেকে এই টাকা কর্তন করা হবে।'
পাউবোর কর্মকর্তা যারা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন, দায়িত্ব পালন করেননি, তাদের ক্ষেত্রে কী হবে?- এমন প্রশ্নের জবাবে আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া বলেন, দুদক তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। পাউবো ও মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে গঠিত টিমগুলো তাদের গাফিলতির বিষয় তুলে ধরবে।