বরিশালে সংঘর্ষ

পুলিশের বাধায় পন্ড বিএনপির বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০১৭

সমকাল ডেস্ক


বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি। তবে পুলিশের বাধায় কর্মসূচি পালন করতে পারেননি দলের নেতা-কর্মীরা। বরিশালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বিএনপির ১৫ নেতা-কর্মী আহত হন। আটক করা হয়েছে সিটি কাউন্সিলরসহ আটজনকে। নারায়ণগঞ্জে যুবদলের মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জে আরও ১৫ জন আহত হন। এ ছাড়া মৌলভীবাজার, মাগুরা ও গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরে মিছিল থেকে ১৫ নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। ব্যুরো, আঞ্চলিক অফিস, নিজস্ব প্রতিবেদক ও জেলা-উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
বরিশাল :মহানগর বিএনপি অশ্বিনী কুমার হল সংলঘ্ন দলীয় কার্যালয়ের সামনে এবং উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যৌথভাবে অশ্বিনী কুমার হলের সামনে সমাবেশের আয়োজন করে। এসব সমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা পৃথক মিছিল নিয়ে অশ্বিনী কুমার হলের দিকে রওনা হলে পুলিশ বাধা দেয়। বেলা পৌনে ১১টার দিকে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের একটি মিছিল পুলিশের বাধা অতিক্রম করে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। একই সময়ে উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা সমাবেশ শেষ করে মিছিল নিয়ে সদর রোডে উঠে যান। পুলিশ ওই মিছিলেও লাঠিচার্জ করে। কিছুক্ষণ পর বিএনপি নেতা-কর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে পুলিশের ওপর পাল্টা হামলার চেষ্টা করেন। এ সময় দু'পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে সদর রোডে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় দোকানপাট। এক পর্যায়ে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে বিএনপি নেতা-কর্মীরা পালিয়ে যান। পুলিশ স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ১৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মীর জাহিদুল কবিরসহ অন্যদের বেধড়ক লাঠিপেটা করে। এতে জাহিদুল কবিরসহ আহত হন অন্তত ১৫ নেতা-কর্মী। ঘটনাস্থল থেকে তাকেসহ মাহবুবুর রহমান পিন্টু ও যুবদল কর্মী মামুন রেজা খানকে আটক করা হয়।
প্রায় আধা ঘণ্টা পর পরিস্থিতি শান্ত হলে দলীয় কার্যালয়ের সামনে মহানগর বিএনপির প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে ফেরার পথে আলমাস, সোহেলসহ আরও পাঁচ কর্মীকে আটক করে পুলিশ।
কোতোয়ালি থানার ওসি আওলাদ হোসেন জানান, কর্মসূচি পালনের নামে সদর রোডে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে পুলিশ বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাধা দেয়। এ সময় তারা পুলিশের ওপর হামলা চালান।
রাজশাহী :বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর ভুবন মোহন পার্ক থেকে মিছিল বের করলেও পুলিশি বাধায় তা পন্ড হয়ে যায়। পরে নগর বিএনপির কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করেন নেতা-কর্মীরা। এতে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ও নগর বিএনপি সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বিএনপির চেয়ারপারসনের
উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু প্রমুখ।
রংপুর :নগরীর গ্র্যান্ড হোটেল মোড়ে দলীয় কার্যালয় থেকে নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রধান সড়কে আসতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এরপর সেখানেই সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির সভাপতি মোজাফ্‌ফর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম প্রমুখ।
পাবনা :সকালে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী খন্দকার হাবিবুর রহমান তোতার নেতৃত্বে দলীয় কার্যালয় থেকে একটি মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশি বাধায় তা পন্ড হয়ে যায়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়।
নারায়ণগঞ্জ :বিকেলে শহরের দেওভোগ এলাকা থেকে যুবদলের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিলটি বের করেন। মিছিলটি কিছুদূর এলেই পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। এতে জেলা যুবদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন, যুবদল নেতা জুম্মন সরকার, ইসমাইল খান, মনির হোসেন, জহির আহমেদ, মাসুম, জাকির, হাজি লিটনসহ ১৫ নেতা-কর্মী আহত হন। সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আবদুর রাজ্জাক জানান, মিছিল থেকে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করতে চাইলে নেতা-কর্মীদের বাধা দেওয়া হয়। এ সময় তারা পুলিশের ওপর চড়াও হলে লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। এদিকে সকালে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া :বেলা ১১টার দিকে শহরের কান্দিপাড়ার পাওয়ার হাউস রোড থেকে মিছিল বের হয়ে টিএ রোড এলাকায় পৌঁছলে পুলিশ ৫-৬ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে কান্দিপাড়া মাল গুদাম এলাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ করে তারা। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকনের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম মোমিনুল হকের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, দপ্তর সম্পাদক জহিরুল ইসলাম লিটন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মনির হোসেন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শামীম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মাহমুদ প্রমুখ।
মৌলভীবাজার :দুপুরে ছাত্রদল নেতা আকিদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি মিছিল চৌমোহনা পয়েন্টে আসার পর তাদের ধাওয়া করে পুলিশ। এ সময় মিছিল থেকে ছাত্রদল নেতা শিপু, ফয়ছল, তপু, কাইয়ুমকে আটক করা হয়। মডেল থানার ওসি সোহেল আহমদ জানান, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে চারজনকে আটক করলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
মাগুরা :দুপুর ১২টার দিকে মাগুরা প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুলিশের বাধায় তা পন্ড হয়ে যায়। পরে প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহম্মেদ বাবুল, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তার হোসেন, উপাধ্যক্ষ মহম্মদ আলী, খান হাসান ইমাম সুজা প্রমুখ। এ ছাড়া শালিখায় উপজেলা সদর আড়পাড়া বাজারে বিএনপি মিছিল বের করলে সেখান থেকে পাঁচ নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম পাঁচজনকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নওগাঁ :দুপুর ১২টার দিকে দলীয় কার্যালয় থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে বিএনপি নেতা-কর্মীরা। সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধলু, যুগ্ম সম্পাদক শহিদুল ইসলাম টুকু, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রশিদ রিপন, জেলা যুবদলের সভাপতি বায়েজিদ হোসেন পলাশ, সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম পিন্টু, মহিলা দলের নেত্রী শবনম মোস্তারী কলি প্রমুখ।
পিরোজপুর :সকালে জেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশের বাধায় তা পন্ড হয়ে যায়। পরে দলীয় কার্যালয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জেলা বিএনপি সভাপতি গাজী নুরুজ্জামান বাবুলের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাধারণ অধ্যাপক আলমগীর হোসেনসহ যুবদল ও ছাত্রদলের নেতারা।
সাদুল্যাপুর (গাইবান্ধা) :দুপুরে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে ছয় নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। তারা হলেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আবদুর রহিম, বিএনপি নেতা শফিউজ্জামান শাফি, জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি জাকির হোসেন সরকার, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ পারভেজ, ধাপেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সল্ফপাদক মিলন মিয়া ও বিএনপিকর্মী সন্দীপ সরকার। সাদুল্যাপুর থানার ওসি (তদন্ত) এমরানুল কবির ছয়জনকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।