স্ট্মারক বক্তৃতা

নীলিমা ইব্রাহিমের সাধনা ছিল সংস্কৃতিমনা মানুষ তৈরি

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০১৭

সমকাল প্রতিবেদক


মানবিক উন্নয়ন না হলে উন্নয়ন টেকসই হয় না। এ কথা বুঝতেন ড. নীলিমা ইব্রাহিম। তার সমগ্র জীবনের সাধনা ছিল সংস্কৃতিমনা মানুষ তৈরি করা। এর জন্য তিনি হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন নাট্যচর্চাকে। আইয়ুব খানের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে বাঙালিত্বের বাতি জ্বালিয়েছিলেন। নাট্যচর্চার মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের কথা বলেছেন তিনি। স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে মুক্তবুদ্ধি চর্চায় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। দেশের ক্রান্তিকালে বীরাঙ্গনাদের কথা তুলে ধরেছেন স্বমহিমায়।
শিক্ষাবিদ ড. নীলিমা ইব্রাহিমের ৯৬তম জন্মোৎসব উদযাপন উপলক্ষে মহিলা সমিতি আয়োজিত স্ট্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। রাজধানীর নিউ বেইলি রোডে মহিলা সমিতি মিলনায়তনে গতকাল শনিবার এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গত ১১ অক্টোবর ছিল নারী জাগরণের অন্যতম এই পথিকৃতের ৯৬তম জন্মবার্ষিকী।
দুই পর্বের অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ছিল শ্রদ্ধাঞ্জলি, শুভেচ্ছা বক্তব্য ও স্ট্মারক বক্তৃতা। এ পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, দেশ অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বৈষয়িক উন্নয়ন হচ্ছে। এ উন্নয়ন তখনই টেকসই হবে, যখন সমাজে মানবিক উন্নয়নও ঘটবে। প্রশ্ন জাগে, সমাজ মানবিক দিক দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে, না পিছিয়ে যাচ্ছে? মানবিক অগ্রগতি, মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়ায় কাজ করে গেছেন ড. নীলিমা ইব্রাহিম।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, 'স্বাধীনতা-পূর্ব ও পরবর্তীকালে ড. নীলিমা ইব্রাহিম ছিলেন মুক্তবুদ্ধি চর্চায় অগ্রণী নারী। আইয়ুব খানের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে বাঙালিত্বের বাতি জ্বালিয়েছিলেন তিনি। নাট্যচর্চার মধ্যদিয়ে তিনি সমাজ পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেছিলেন।
'বাংলাদেশের মঞ্চ নাটক ও ড. নীলিমা ইব্রাহিম' শীর্ষক স্ট্মারক বক্তৃতা উপস্থাপন করেন নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার। তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের নাট্যচর্চার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সে সময় যারা ছাত্রদের নাট্যচর্চায় অনুপ্রাণিত করতেন, তাদের মধ্যে ড. নীলিমা ইব্রাহিম ছিলেন অন্যতম। তার হাত ধরেই বাংলাদেশ মহিলা সমিতি নব নাট্যচর্চার ধাত্রী রূপে আত্মপ্রকাশ করে। এ দেশ তাকে স্ট্মরণ রাখবে বিবেকী কণ্ঠ ও নাট্যপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে।
স্ট্মারক বক্তৃতার ওপর আলোচনায় অংশ নেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ ও মহিলা সমিতির সহসভানেত্রী ড. মারুফী খান। বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন না হলে কোনো উন্নয়ন টেকসই হয় না। তার সমগ্র জীবনের সাধনা ছিল সংস্কৃতিমনা মানুষ তৈরি করা। আর এজন্য তিনি হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন নাট্যচর্চাকে।
মহিলা সমিতির সাবেক সভানেত্রী সেলিনা খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমিতির সাধারণ সম্পাদিকা তানিয়া বখত। বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সাংবাদিক দিল মনোয়ারা মনু, ড. নীলিমা ইব্রাহিমের মেয়ে ও মহিলা সমিতির সভানেত্রী সিতারা আহসান উল্লাহ। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে মহিলা সমিতি আয়োজিত 'নাটোৎসব ২০১৭'-এর উদ্বোধন করেন আসাদুজ্জামান নূর। এরপর ভাবনা নৃত্যদল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগীতি 'ভানু সিংহের পদাবলী' অবলম্বনে নৃত্যনাট্য পরিবেশন করে।