'ছেলেরা খাবার দেয় না, কষ্ট সইতে না পেরে বিষ খাই'

মুন্সীগঞ্জে বৃদ্ধ মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০১৭

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি


'ছেলেরা খাবার দেয় না, এক মাস ধইরা খাওনের কষ্টে আছি। খাওনের কষ্ট সইতে না পেরে শনিবার সকালে ঘরের মধ্যে বোতলে থাকা বিষ (কীটনাশক) খাই।' শনিবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মেঝেতে বিছানায় শুয়ে চিকিৎসাধীন ৭০ বছর বয়সী নাসিমা বেগম যখন এসব কথা বলছিলেন, তখন উপস্থিত অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। শনিবার সকালে মুন্সীগঞ্জ সদরের শাঁখারীবাজার এলাকায় সন্তানদের অবহেলা ও খাবারের কষ্ট সইতে না পেরে মনের কষ্টে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান নাসিমা বেগম। বেলা ১১টার দিকে স্বজনরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে এলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ভর্তি করা হয়। বিছানা সংকট থাকায় বর্তমানে তার ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের মেঝেতে। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শৈবাল বসাক জানান, মনের কষ্টে বিষপান করার কথা তাকে জানিয়েছেন ওই রোগী। তার জন্য মহিলা ওয়ার্ডের বিছানার ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে খবর পেয়ে প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সদর থানার ওসি মো. আলমগীর হোসাইন হাসপাতালে গিয়ে নাসিমা বেগমের খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি তারা তাকে সহযোগিতা করার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এ ছাড়া অমানবিক এ খবর পেয়ে শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গতকাল দুপুরের পর থেকে নাসিমা বেগমকে দেখতে হাসপাতালে জড়ো হন। এ সময় তারা তার ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা না নেওয়ায় সন্তানদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানান। তা না হলে নাসিমা বেগমের মতো এমন আরও অনেক ঘটনা ঘটবে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, নাসিমা বেগমকে সুস্থ করে তুলতে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ভিটামিনসহ বিভিন্ন ওষুধ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পুষ্টিহীনতায় ভুগছেন।
মেয়ে জোছনা বেগম, বকুল বেগম ও পারুল বেগমের অভিযোগ, মা নাসিমা বেগম ছেলেদের সংসারে অবহেলার শিকার হয়েছেন। মায়ের যত্মম্ন নিতে বললে ভাইয়েরা তাদের ওপর চড়াও হতো। ভাইয়ের স্ত্রীরা মাকে বাসি ও পান্তা খাবার খেতে দিত। আবার এক বেলা খেতে দিলে আরেক বেলা দিত না। বাবা মারা যাওয়ার আগেই মায়ের নামে বাড়ির সম্পত্তি ভাইয়েরা দলিল করে নেয়।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, নাসিমা বেগমের চার ছেলে। তাদের মধ্যে সালু মিয়া, হযরত আলী ও মোশারফের অবস্থা সচ্ছল। সিরাজ নামের অপর ছেলে মানসিক প্রতিবন্ধী। মায়ের ভরণ-পোষণ নিয়ে তিন ছেলের সংসারে অশান্তি চলে আসছিল। সদর থানার ওসি মো. আলমগীর হোসাইন জানান, খাবারের কষ্টে মায়ের বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।