সাইকেলে বিশ্বের সর্বোচ্চ সড়ক জয় সাকিবের

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০১৭

চট্টগ্রাম ব্যুরো


সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৮ হাজার ৩৮০ ফুট উচ্চতায় সাইকেল চালিয়ে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন কক্সবাজারের চকরিয়ার ছেলে সাকিব মাহমুদ। গত ১৮ জুলাই গাড়ি চলাচলের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু সড়কপথ ভারতের খারদুংলা পাসে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ান তিনি। ২৫ দিনের এই সাইকেল অভিযানে সাকিব পাড়ি দিয়েছেন হিমালয়ের কোলঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার পাহাড়ি রাস্তা। এই সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে তিনি
স্পর্শ করেছেন আরও ছয়টি সুপরিচিত হিমালয়ান পাস বা সড়কপথ। ২৪ বছর বয়সী এ তরুণ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।
বাংলাদেশের হয়ে সাকিবের আগে মাত্র একজনই এই পথে সাইকেল চালানোর দুঃসাহস দেখিয়েছেন। নিয়াজ মোর্শেদ নামের ওই তরুণ পাড়ি দিয়েছিলেন ৫১৫ কিলোমিটার। তবে বিভিন্ন পথ ঘুরে খারদুংলা যেতে নিয়াজের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে সাকিবকে। এর আগে প্রথম সাইক্লিস্ট হিসেবে জয় করেছেন দেশের সর্বোচ্চ থানচি-আলিকদম সড়ক। সেটি ভালোভাবে সম্পন্নের পর পা বাড়ান বিশ্বের
সর্বোচ্চ সড়কের পথে। গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এভাবেই নিজের অভিজ্ঞার কথা তুলে ধরেন সাকিব।
এর আগে তিনি টেকনাফ থেকে ভারতের কলকাতা পর্যন্ত সাইকেল চালিয়েছেন। এখন তার স্বপ্ন একটাই- সাইকেল দিয়ে বিশ্বজয় করা। তিনি আরও বলেন, 'পৃথিবীর সর্বোচ্চ পথে ওঠাটা সহজ ছিল না একেবারেই। কখনও বৃষ্টি মাথায় নিয়ে, কখনও বা হাড়কাঁপানো ঠান্ডা, ছিল অক্সিজেন না পাওয়ার ভয়ও। এর সঙ্গে বারবার গতি থামিয়ে দিচ্ছিল পুরনো সাইকেল। তবুও আমি থামিনি। সব বাধাকে উপেক্ষা করে এগিয়ে গেছি স্বপ্নপূরণে।' টাকার অভাবে ভারতের ভিসা করতেও দেরি হয়ে যায় এই তরুণের। পৃষ্ঠপোষকতার জন্য ঘুরেছেন দ্বারে দ্বারে। কেউ সাড়া দেয়নি। সর্বশেষ কিছু বড় ভাই এগিয়ে আসেন সাকিবের স্বপ্নপূরণে। তিনি আরও জানান, চলতি বছরের ১৯ জুন খারদুংলা পাস জয়ের নেশায় ভারতের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন। ২৪ জুন থেকে শুরু করেন যাত্রা। তবে মাঝপথে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সাতদিন অবসর সময় কাটাতে হয়েছে। ১৮ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টায় পৌঁছে যান খারদুংলা পাসে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- ভার্টিক্যাল ড্রিমার্সের সভাপতি দেবাশিস বল এবং সাধারণ সম্পাদক ফরহান জামানসহ সংগঠনের অন্যরা।