স্ট্মরণানুষ্ঠানে বক্তারা

দ্বিজেন শর্মার মতো প্রকৃতিপ্রেমিক খুঁজে পাওয়া দুস্কর

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০১৭

সমকাল প্রতিবেদক


দ্বিজেন শর্মা স্ট্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, দ্বিজেন শর্মা নির্লোভ, পরিপূর্ণ ও সুন্দর জীবন গড়ে তুলেছিলেন। তিনি গাছ চিনতেন, অন্যকে চেনাতেন। তার সংস্পর্শে যারা এসেছেন, তাদের প্রত্যেককে তিনি প্রকৃতিকে ভালোবাসতে শিখিয়েছেন, সচেতন করেছেন। তার মতো নিসর্গ প্রেমিক খুঁজে পাওয়াটা দুস্কর হবে। দ্বিজেন শর্মাকে 'প্রকৃতিপুত্র' খেতাব দিয়ে তার নামে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানের নামকরণেরও প্রস্তাব রাখেন তারা।
গতকাল শনিবার বিকেলে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার হলে দ্বিজেন শর্মা স্ট্মরণ ও স্ট্মৃতিতর্পণ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। এ শ্রদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন করে দ্বিজেন শর্মার নিজের হাতে গড়ে তোলা পরিবেশবিষয়ক সংগঠন তরুপল্লব। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন দ্বিজেন শর্মার স্ত্রী ড. দেবী শর্মা, প্রাবন্ধিক-গবেষক মফিদুল হক, পরিবেশবিজ্ঞানী ড. আইনুন নিশাত, বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সভাপতি ইনাম আল হক, শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম, তরুপল্লবের সাধারণ সম্পাদক মোকারম হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে দ্বিজেন শর্মার স্ট্মৃতির উদ্দেশে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এর পর তার জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। এ উপলক্ষে 'প্রকৃতিপত্র' প্রকাশ করেছে একটি বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য সংখ্যা। ছিল তার বইয়ের একক প্রদর্শনীও।
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, কিছুদিন আগে 'প্রকৃতিপুত্র দ্বিজেন শর্মা' বইয়ের নামকরণ দেখে চমকে গিয়েছিলাম। আমি দীর্ঘদিন তাকে প্রকৃতির মধ্যে প্রকৃতি হতে দেখেছি। মনে হতো, প্রকৃতির মধ্যে তিনি আরেক প্রকৃতি হয়ে থাকতেন। তিনি যে প্রকৃতির পুত্র, সেটা ওই বই থেকে টের পেলাম। এর পর তাকে প্রকৃতিপুত্র হিসেবেই ডাকতে পারি। আমার মাঝেমধ্যে মনে হতো, দ্বিজেনদা কোনো মানুষ নন। তিনি প্রকৃতির ভেতর হেঁটে যাওয়া এক সত্তা।
দেবী শর্মা বলেন, দ্বিজেন শর্মার দ্বিজেন শর্মা হয়ে ওঠা পূর্বনির্ধারিত ছিল। কলকাতায় গিয়েছিলেন চিকিৎসক হওয়ার জন্য, কিন্তু তিনি তা হননি। এর বহু পরে ১৯৯৫ সালে আমরা যখন মস্কো থেকে দেশে ফিরলাম, তখন তিনি প্রকৃতি ও মানুষকে ভালোবাসার সুযোগ পেলেন। গড়ে তুললেন নানা সংগঠন, যাত্রা শুরু করে তরুপল্লব। তখন বিপ্রদাশ বড়ূয়া, মোকারম হোসেনের মতো ছাত্ররা তার পিছু নিলেন। তিনি তাদের গাছ দেখাতেন, গাছ চেনাতেন।
মফিদুল হক বলেন, বই নিয়ে তার সঙ্গে আমার সবচেয়ে বেশি যোগাযোগ। মস্কো থেকে তিনি আমাকে চিঠি লিখতেন, যার নিচে তিনি লিখতেন 'চিরদিনের দ্বিজেনদা'। তখন এটা
মামুলি মনে হয়েছিল। এখন বুঝি ওই বাক্য লেখা চিঠি পাওয়াটা কত বড় অলৌকিক আশীর্বাদ।
আইনুন নিশাত বলেন, জীববৈচিত্র্য নিয়ে জানাশোনা লোক অনেকেই আছেন। কিন্তু মাটি, পানি, বাতাস সমন্বয়ে প্রকৃতির যে বৈচিত্র্যময়তা, তা আমাদের নটর ডেম কলেজে পড়িয়েছেন দ্বিজেন শর্মা। আমি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হলেও যখন পরিবেশ নিয়ে কাজ করতে এসেছি, তখন স্যারের সেই ক্লাসগুলো থেকে আমি উদাহরণ দিতাম।
আলী ইমাম বলেন, তিনি এ পৃথিবীতে নয়, অন্য এক পৃথিবীর হাতছানি নিয়ে এসেছিলেন। রমনা উদ্যানে যদি দ্বিজেন প্রাঙ্গণ চালু করা যায়, তাহলে আমরা সবুজকে উপভোগ করতে পারব।
মোকারম হোসেন বলেন, আমরা দ্বিজেন শর্মার নামে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানটির নামকরণ করার দাবি জানাচ্ছি।
বৃক্ষসখা ও উদ্যানবিদ অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।