প্রধান বিচারপতির বক্তব্য পর্যালোচনা করে প্রতিক্রিয়া -ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০১৭

সমকাল প্রতিবেদক


আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিদেশ যাওয়ার আগে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তার অসুস্থতার কথা অস্বীকার করে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে দলের বৈঠকে আলোচনা করেই প্রতিক্রিয়া জানাবে আওয়ামী লীগ। তার আগে এ বিষয়ে কিছু বলবেন না তারা।
গতকাল শনিবার রাজধানীর বেইলি রোডে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, প্রধান বিচারপতির ছুটি চাওয়া আর বিদেশ যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া বক্তব্য- দুটিই লিখিত বিষয়। এ দুটি বিষয় নিয়ে দলীয় ফোরামে আলাপ-আলোচনা করে দলীয় বক্তব্য দেওয়া হবে।
সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায় ও পর্যবেক্ষণ নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার মুখে থাকা প্রধান বিচারপতি ছুটির ইচ্ছা জানানোর পর ৩ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত তার ছুটি অনুমোদন করেন রাষ্ট্রপতি। পরে তা ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। শুক্রবার রাতে তিনি অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। এই দেশটি ছাড়াও তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডা যাবেন। ১০ নভেম্বর তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অসুস্থতার কারণে প্রধান বিচারপতি ছুটিতে গেছেন। তবে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে সুরেন্দ্র কুমার সিনহা সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে দাবি করেছেন, অসুস্থতা নয়; সরকারের আচরণে বিব্রত হয়ে তিনি ছুটি নিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, তিনি পালিয়ে যাচ্ছেন না; আবার ফিরে আসবেন।
প্রধান বিচারপতির অসুস্থতার কথা অস্বীকার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি তো অসুস্থ বলে ছুটি চেয়েছেন রাষ্ট্রপতির কাছে। তার দেওয়া দুটি বক্তব্য নিয়েই আমাদের আলাপ-আলোচনা করতে হবে। আর যিনি (আইনমন্ত্রী) জোর গলায় বলেছেন-
অসুস্থতার কারণেই প্রধান বিচারপতি ছুটি চেয়েছেন; তাকেও দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ বৈঠকে (গতকাল অনুষ্ঠিত) আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এর আগে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভর্তি কার্যক্রমে মন্ত্রী-এমপিদের তদবিরকে পাত্তা না দেওয়ার জন্য কলেজ অধ্যক্ষ ও প্রশাসনকে পরার্মশ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, শুনছি, এখানকার ভর্তি পরীক্ষায় মন্ত্রী-এমপিরা ডিও লেটার দেন। মন্ত্রী-এমপিদের এসব ডিও লেটারে ভর্তি নিয়ে মেধা নষ্ট করবেন না। এ মন্ত্রী-এমপিদের অনুরোধকেও পাত্তা দেবেন না। কারও তদবিরে ভর্তি হলে মানসম্মত ফল হবে না। আলোকিত অধ্যক্ষ হোন।
দেশের স্বনামধন্য এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সমস্যার অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ভিকারুননিসার বাইরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট অবস্থা। এ প্রতিষ্ঠানে অবকাঠামোসহ অনেক সংকট ও সমস্যা রয়েছে। এ অবস্থার পরির্বতন দরকার। এ জন্য প্রতিষ্ঠানের সদিচ্ছা থাকতে হবে। শিক্ষকদের প্রতি প্রাইভেট কোচিং করিয়ে শিক্ষার মান নষ্ট না করা এবং কলেজের মেয়েদের মাদক সেবন থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রতি সচ্চরিত্রবান ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে উঠতে লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগী হওয়ার আহ্বানও জানান।
ওবায়দুল কাদের পরে কৃতী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি গোলাম আশরাফ তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌসসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।