ঢাকায় জীবনযাত্রার ব্যয় এক বছরে বেড়েছে ৮.৪৪%

প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০১৮      

সমকাল প্রতিবেদক

২০১৭ সালে ঢাকায় জীবনযাত্রার ব্যয় ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়েছে। এর আগের বছরে বেড়েছিল ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এক প্রতিবেদনে গতকাল এ তথ্য জানিয়েছে। ক্যাব বলছে, গেল বছর রাজধানীতে পণ্য ও সেবার মূল্য বেড়েছে ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ। অবশ্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে মূল্যস্ম্ফীতি এর চেয়ে কম। গতকাল প্রকাশিত বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী গত বছরের শেষ প্রান্তিকে জাতীয় পর্যায়ে মূল্যস্ম্ফীতির হার ৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

রাজধানীর ১৫টি খুচরা বাজারের ১৪০টি খাদ্যপণ্য, ২২টি নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রী ও ১৪টি সেবার তথ্য পর্যালোচনা করে জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর প্রতিবেদন তৈরি করেছে ক্যাব। শিক্ষা, চিকিৎসা ও যাতায়াত ব্যয় এর সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ২০১৭ সালের দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর বার্ষিক প্রতিবেদন তুলে ধরেন ক্যাব সভাপতি গোলাম রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম, আহ্বায়ক স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ভূঁইয়াসহ সংগঠনের কর্মকর্তারা।

ক্যাব সভাপতি বলেন, নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের ওপরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব বেশি। ব্যয় কমানোর তৎপরতা সরকারের পক্ষ থেকে দেখা যাচ্ছে না। উন্নয়ন হচ্ছে সন্দেহ নেই, কিন্তু এর সুফল নিম্ন আয়ের মানুষ পাচ্ছে না। আয় বেড়েছে গুটি কয়েক মানুষের। ব্যয় বেড়েছে প্রায় সবারই।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালে পণ্য ও সেবার মূল্য বেড়েছে ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ, যা আগের বছর ছিল ৫ দশমিক ৮১ শতাংশ। গত বছর সব ধরনের চালের গড়মূল্য বেড়েছে ২০ দশমিক ৪০ শতাংশ। মোটা চালের দাম প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়েছে। আমন উৎপাদন কম হওয়া, ডলারের মূল্য বৃদ্ধি এবং সরকারের সংগ্রহ মূল্য কেজিতে ৫ টাকা বাড়ানোয় চালের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী। গত এক বছরে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। দেশি পেঁয়াজ প্রায় ৪৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ ও আমদানি পেঁয়াজ ৫৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়েছে।

ক্যাবের তথ্য অনুযায়ী গত এক বছরে চুলার গ্যাসের মূল্য বেড়েছে ২৩ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। আবাসিকে বিদ্যুতের মূল্য ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ ও বাণ্যিজিক খাতে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়েছে। ওয়াসার পানির মূল্য প্রতি হাজার লিটারে বেড়েছে ৫ শতাংশ। বাসা ভাড়া বেড়েছে ৮ দশমিক ১৪ শতাংশ। মোবাইল অ্যাপভিত্তিক যাত্রী পরিবহন উবারের ভাড়া বেড়েছে ২০ থেকে ২২ শতাংশ। জ্বালানি তেলের মূল্য কমলেও গণপরিবহন ব্যয় কমেনি।

অন্যান্য খাদ্যপণ্যের মধ্যে শাক-সবজির গড়ে দাম বেড়েছে ২৪ দশমিক ২৮ শতাংশ। তরল দুধে বেড়েছে ২০ দশমিক ৩৬ শতাংশ। গরুর মাংস বেড়েছে ১৯ দশমিক ৭২ শতাংশ। ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে ১০ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এ ছাড়া গুঁড়ো দুধ, মাছ, ডালডা, ঘি, দেশি মুরগি, দেশি ডিম, আটা-ময়দা ও ডালের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৪৮ থেকে

৫ দশমিক ১১ শতাংশের মধ্যে। আর দেশি শাড়ি কাপড় ৬ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং গেঞ্জি, গামছা ও তোয়ালের গড় দাম বেড়েছে ৪ দশমিক ২৩ শতাংশ।

স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল মুষ্টিমেয় কয়েকজনের হাতে চলে যাওয়া খুবই বিপজ্জনক। আয় বৈষম্য দূর করা জরুরি। এম শামসুল আলম বলেন, গত বছরে শ্রমিকের বেতন বাড়েনি। কিন্তু দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রা ব্যয়ের প্রভাব পড়েছে ১২ কোটি মানুষের ওপর।



সুপারিশ :জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে ১০টি সুপারিশ করেছে ক্যাব। এতে বলা হয়- ১২ থেকে ১৫টি খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য চিহ্নিত করে সবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি ঠিক রাখতে হবে। এ জন্য 'সরবরাহ ও মূল্য' নামে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পৃথক বিভাগ অথবা স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় করতে হবে। অন্যান্য সুপারিশের মধ্যে রয়েছে চালের বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকারের গুদামে ১০ থেকে ১২ লাখ টন চাল মজুদ করে নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বিতরণ বাড়ানো। কৃষকদের কাছ থেকে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন পদ্ধতিতে চাল সংগ্রহ করা এবং শস্যবীমা চালু এবং ভাড়াটেদের স্বার্থ সংরক্ষণে বাড়িভাড়া আইন সংশোধন ও কমিশন গঠনের সুপারিশ করেছে ক্যাব।