অর্থাভাবে চিকিৎসা চালাতে পারছে না 'বৃক্ষশিশু' রিপন

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০১৮      

পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি

প্রথম দিকে সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, প্রশাসনসহ সবাই খোঁজ নিত রিপনের। এখন আর তার খোঁজ রাখে না কেউ। প্রাথমিক পর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তায় বৃক্ষশিশু রিপনের (৯) চিকিৎসা শুরু হলেও বর্তমানে তীব্র অর্থ সংকটে তাকে ঢাকা নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করাতে পারছেন না তার দরিদ্র পিতা। কেটগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র রিপন অক্টোবরের শেষ দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে দুই মাসের জন্য ছাড়া পেয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার কেটগাঁওয়ে গ্রামের বাড়িতে এসেছিল।

রিপনের বাবা মাহেন্দ্র দাস জানান, ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল রিপন। তার হাতে-পায়ে এরই মধ্যে তিনবার অস্ত্রোপচার হয়। আগের চেয়ে কিছুটা সুস্থ হলেও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পুরোপুরি সুস্থ হতে আরও অস্ত্রোপচার করতে হবে। তবে তা দু'মাস পর।

'দুই মাস হয়ে গেছে। কিন্তু এখন আমি ছেলেকে নিয়ে যে আবারও ঢাকা মেডিকেলে যাব, সে টাকা আমার নেই। জুতা

সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চলে আমার। পুরনো ডিসি ও ইউএনও স্যার আমাকে সহায়তা করেছেন। কিন্তু বর্তমানে অফিসাররা সবাই নতুন। তারা আমাদের সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তাই কারও কাছে সাহায্যও চাইতে পারি না,' অসহায় কণ্ঠ মহেন্দ্র দাসের।

জেলা প্রশাসক আবদুল আওয়াল জানান, 'অর্থ সহায়তা পেতে রিপনের পরিবারকে ইউএনওর মাধ্যমে আমার কাছে আসতে হবে।'

খুলনার আবুল বাজনদার বাংলাদেশে প্রথম এবং শিশু রিপন রায় দ্বিতীয় বৃক্ষমানব হিসেবে পরিচিতি পায় তাদের হাত ও পায়ের অস্বাভাবিক মাংসপেশির কারণে। ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে রিপনকে নিয়ে সমকাল পত্রিকার শেষের পাতায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর এগিয়ে আসে অনেকেই। ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় রিপনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। সেখানে বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক ডা. সামন্ত লাল সেনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসক ডা. রোমানা পারভীনের অধীনে চিকিৎসাধীন রয়েছে রিপন।

ডা. রোমানা পারভীনের উদ্ৃব্দতি দিয়ে রিপনের পিতা মহেন্দ্র দাস জানান, রিপন 'এপিডার্মোডিসপ্লাসিয়া ভেরাসিফরমিস' নামের বিরল রোগে ভুগছে। পুরোপুরি সুস্থ হতে আরও সময় ও চিকিৎসা লাগবে তার।