কুমিল্লায় বিএনপির দুই পক্ষে সংঘর্ষ, আহত ৫০

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০১৮      

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা ও লাকসাম প্রতিনিধি

কুমিল্লায় বিএনপির দুই পক্ষে সংঘর্ষ, আহত ৫০

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে শুক্রবার বিএনপির দু'গ্রুপের সংঘর্ষের সময় জ্বালিয়ে দেওয়া মোটরসাইকেল - সমকাল

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দু'পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় প্রায় ৩০টি যানবাহন ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মনোহরগঞ্জ বাজার ও ঝলম উত্তর ইউনিয়নের বড় কেশতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় নেতাকর্মী ও পুলিশ সূত্র জানায়, মনোহরগঞ্জের ঝলম উত্তর ইউনিয়নের বড় কেশতলা এলাকায় বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির পণ্ডিতের বাবার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মেজবানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম ওরফে চৈতি কালাম শোডাউন করে দাওয়াতে যাচ্ছিলেন। এ সংবাদে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কর্নেল (অব.) আনোয়ারুল আজিম সমর্থিত নেতাকর্মীরা চৈতি কালামকে প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেয়। এতে উভয়পক্ষের নেতাকর্মীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয় গ্রুপ দফায় দফায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে মনোহরগঞ্জ বাজার ও ঝলম উত্তর ইউনিয়নের বড় কেশতলা এলাকায় চৈতি কালাম সমর্থিতদের প্রায় ২০টি মোটরসাইকেল, আটটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও তিনটি প্রাইভেটকার ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ম্ফোরণ হয়। এতে গ্রামবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

চৈতি কালাম দুপুরে তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত অস্ত্রধারী নিরাপত্তা বাহিনী ও বহিরাগতদের নিয়ে গাড়িবহরে সাইরেন বাজিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করে। তার প্রবেশের পর পরই উভয় গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে মনোহরগঞ্জ থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আনোয়ারুল আজিম সমর্থিত মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান ইলিয়াছ পাটোয়ারী জানান, ২০০৮ সালে চৈতি কালাম প্রকাশ্যে নৌকার পক্ষে কাজ করে ধানের শীষের প্রার্থীকে হারিয়ে দেন। ফলে মনোহরগঞ্জে ত্যাগী নেতাকর্মীরা আজও তাকে মেনে নিতে পারছেন না। এ পরিস্থিতিতে চৈতি কালামের শোডাউন করে মনোহরগঞ্জে আসা ঠিক হয়নি। এসেই তিনি ত্যাগী নেতাকর্মীদের প্রতিরোধের মুখে পড়েছেন। চৈতি কালাম সমর্থিতে জলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার জাহান দোলন দাবি করেছেন, কালাম

সাহেবসহ আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানে গিয়েছি। কোনো সমস্যা হয়নি। এদিকে, কেশতলা গ্রামের মোশাররফ হোসেন বাবুল অভিযোগ করেন, বিএনপির এ ধরনের কর্মসূচির কারণে গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সংঘর্ষে উভয়পক্ষের লোকজন বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করেছে এবং ককটেলের বিস্ম্ফোরণ ঘটিয়েছে বলে শুনেছি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এখনও কোনো পক্ষ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।