পালানোর পরিকল্পনা ছিল স্নিগ্ধা ও কামরুলের

পিপি রথীশ হত্যা

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০১৮      

ইকবাল হোসেন, রংপুর

রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের পিপি রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবুসোনাকে হত্যার পর প্রতিবেশী দেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল স্ত্রী স্নিগ্ধা ভৌমিক ও তার কথিত প্রেমিক কামরুল ইসলামের। এ জন্য তারা সবকিছু গুছিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার মুখে পালিয়ে যাওয়ার সাহস পায়নি। ১০ দিনের রিমান্ডের প্রথম দিন জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য দিয়েছে কামরুল ইসলাম। তার তথ্যে আরও জানা যায়, ছাত্রাবস্থায়ও একাধিক নারীর সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্ক ছিল।

এদিকে হত্যার কয়েকদিন আগে রথীশ চন্দ্র প্রায় আড়াই লাখ টাকা এনে বাড়িতে রাখেন। সে টাকারও কোনো হদিস পায়নি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তারা ধারণা করছে, এ টাকা স্নিগ্ধা কামরুলকে দিয়েছে।

থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদে স্নিগ্ধা ভৌমিকও পুলিশকে নানা তথ্য দিয়েছে। তবে তারা টাকার ব্যাপারে মুখ খোলেনি। পুলিশ জানায়, অত্যন্ত চালাক প্রকৃতির স্নিগ্ধা ও কামরুল। কোনো কথা জিজ্ঞেস করলেই অসুস্থতার ভান করে। তবে পারিবারিক ও পরকীয়াসহ বেশ কিছু তথ্য দিয়েছে তারা। তদন্তের স্বার্থে সেগুলো সাংবাদিকদের জানানো হয়নি।

পুলিশ জানায়, তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর নানা অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার কারণে কামরুলকে সতর্ক করে দেন রথীশ চন্দ্র। এতেও কাজ না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করে দেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয় কামরুল ও স্নিগ্ধা। স্নিগ্ধা তার স্বামীকে কামরুলের বিরুদ্ধে কমিটি গঠন করতে বারণ করেছিল। কিন্তু তা মানেননি রথীশ চন্দ্র। এ নিয়ে বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। পরকীয়ার বিষয়টি নিয়ে ৩০ মার্চ কামরুলের লোকজন ও রথীশ চন্দ্রের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। বিষয়টি কামরুল ও স্নিগ্ধা মেনে নিতে পারেনি। এ কারণেই কি তড়িঘড়ি করে ২৯ মার্চ রাতে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে রথীশ চন্দ্রকে হত্যা করে লাশ মাটিচাপা দেওয়া হয়, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন তদন্ত সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা।

পুলিশ ও এলাকাবাসীর তথ্যানুযায়ী, মেয়েদের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক গড়া ছাড়াও কামরুলের অর্থের লোভও ছিল। রথীশ চন্দ্র অনেক অর্থ-সম্পত্তির মালিক। তাই একই উদ্দেশে তার স্ত্রী স্নিগ্ধার সঙ্গে সে পরকীয়া শুরু করে। ইতিমধ্যে সে অনেক টাকাও নিয়েছে। তা না হলে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি করে রাধাবল্লভ এলাকায় জমি কিনে দোতলা একটি বাড়ি কীভাবে করেছে। নামে বেনামে অনেক ব্যবসাও রয়েছে তার।

২৮ মার্চ কামরুল ঘুমের বড়ি এনে দেয় স্নিগ্ধাকে। পরদিন রাতে ভাত ও দুধের সঙ্গে সেই ঘুমের বড়ি মিশিয়ে রথীশ চন্দ্রকে অচেতন করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করে স্নিগ্ধা ও কামরুল। এরপর তাজহাট মোল্লাপাড়ায় কামরুলের ভাই খাদেমুল ইসলামের নির্মাণাধীন বাড়ির মেঝে গর্ত করে লাশ পুঁতে রাখা হয়। পাঁচ দিন পর র‌্যাব লাশটি উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে পিপির ভাই সুশান্ত ভৌমিক কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আল আমিন বলেন, কামরুল ইসলাম ১০ দিনের রিমান্ডের প্রথম দিনে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছে। সেগুলোই যাচাই-বাছাই করে দেখছি। স্নিগ্ধা ভৌমিকও জিজ্ঞাসাবাদে স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে নানা তথ্য দিয়েছে।

কোতোয়ালি থানার ওসি বাবুল মিয়া বলেছে, রথীশ চন্দ্র হত্যায় এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান আসামি কামরুল ইসলাম ১০ দিনের রিমান্ডে রয়েছে। বাকিরা কারাগারে। মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় যেসব তথ্য পাচ্ছি, তার সবই মিডিয়ার সামনে বলছি না। তবে এ হত্যার বিষয়ে অনেক তথ্যই পাওয়া গেছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখছি।