বাংলাদেশ হেরিটেজ ফাউন্ডেশন আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা অভিযোগ করেছেন, খুলনা সিটি করপোরেশনের ভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ার পরও কোনো কোনো মহল এই নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতি জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে বলে দাবি করে বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রতি আকৃষ্ট হয়েই খুলনার মানুষ মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিজয়ী করেছেন। গতকাল শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত 'সিটি করপোরেশন নির্বাচন :খুলনা থেকে গাজীপুর' শীর্ষক ওই সেমিনারে আলোচকদের মধ্যে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাবেক চেয়ারম্যান ড. এ কে আজাদ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গোবিন্দ চক্রবর্তী, অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ড. মেজবাহ কামাল, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির ভিসি ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবির, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।

এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনের আগে পরিকল্পিতভাবে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে। আরেফিন সিদ্দিক বলেন, এ দেশে পরাজিত দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চালানোর একটি অপসংস্কৃতি চালু রয়েছে। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

বেসরকারি সংস্থা সুজনের (সুশাসনের জন্য নাগরিক) কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, নির্বাচন কেন্দ্রের ৪০০ গজের বাইরে থেকে কোনো সংগঠন নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করলে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আবদুল মান্নান বলেন, খুলনায় যে সমস্যা ছিল না, গাজীপুরে তা রয়েছে। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীকে স্থানীয় নেতাকর্মীরা সহায়তা করে কি-না তা দেখতে হবে।

মেজবাহ কামাল বলেন, সরকারের উন্নয়ন সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করেছে। যার প্রতিফলন খুলনার সিটি নির্বাচনে পড়েছে। গাজীপুরের ভোটের এর রেশ পড়বে। গাজীপুরে শ্রমজীবী ও আওয়ামী লীগের শরিকদের নিয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রভাব খুলনার ভোটে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন গোলাম কুদ্দুছ। কোনো কোনো দল ধর্মীয় অনুভূতি কাজে লাগিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রতিহত করতে চায় বলে মন্তব্য করে রোকেয়া কবির বলেন, এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে ভূমিকা পালন করতে হবে।

ওই সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান ওয়ালিউর রহমান। তিনি বলেন, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হলেও কিছু সংগঠন খুলনার নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। দলের প্রতি কমিটমেন্টের অভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের ভোটকেন্দ্রে দেখা যায়নি বলে দাবি করে শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করায় নির্বাচন কমিশনের প্রশংসাও করেন ওয়ালিউর রহমান।

মন্তব্য করুন