স্বরাষ্ট্র সচিবসহ তিন সচিবের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০১৮      

সমকাল প্রতিবেদক

দশ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রতিটি গাড়িতে গতি নিয়ন্ত্রক যন্ত্র স্থাপনে উচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় সরকারের সংশ্নিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই রুল জারি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল মুস্তাকিম। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আল আমিন সরকার।

যাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করা হয়েছে তারা হলেন- স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজি এবং বিআরটিএ'র চেয়ারম্যান। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্নিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, আদালতের রায় যথাযথভাবে প্রতিপালন না হওয়ায় কেন তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার কার্যক্রম শুরু করা হবে না এবং এই অভিযোগে কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না।

সড়ক দুর্ঘটনারোধে ২০০৮ সালে হাইকোর্টের দেওয়া একটি রায়ের নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করায় গত ১১ জুলাই উকিল নোটিশ পাঠান নাছির উদ্দিন বাচ্চু। নোটিশের জবাব না পাওয়ায় আদালত অবমাননার অভিযোগে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন। প্রতিটি গাড়িতে গতি নিয়ন্ত্রক যন্ত্র বসাতে হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় আদালত অবমাননার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই রুল জারি হয়।

২০০৭ সালের ১১ ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমি এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নির্মমভাবে প্রাণ হারান ঢাকা সিটি কলেজের ছাত্রী সাদিয়া আফরিন শুচি (২২)। বিভিন্ন জাতীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনের আলোকে স্বপ্রণোদিত হয়ে তখন হাইকোর্ট রুল জারি করেন। পরে ২০০৮ সালের ১০ মার্চ বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক (পরবর্তীকালে প্রধান বিচারপতি) ও বিচারপতি আবদুল আউয়ালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে রায় দেন। রায়ে প্রতিটি গাড়িতে গতি নিয়ন্ত্রক যন্ত্র স্থাপন করতে বলা হয়।

ওই রায়ে আরও বলা হয়, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সব গাড়িতে গতি নিয়ন্ত্রক যন্ত্র স্থাপন এবং কেন্দ্রীয়ভাবে তা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। সব ট্রাফিক হেডকোয়ার্টারে গতি নিয়ন্ত্রক মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একই সময়ে যেসব গাড়িতে এই নিয়ন্ত্রক যন্ত্র স্থাপন করা হবে না, সেগুলোর মালিকদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।

এ ব্যবস্থা কার্যকর করতে সংস্থাপন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও নিয়োগের ব্যবস্থা করতে এবং প্রয়োজনীয় অর্থ দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন আদালত। এ ছাড়া যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে আদেশ কার্যকর করতে এবং বিআরটিএ'কে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু হাইকোর্টের রায়ের ১০ বছর পরেও প্রতিটি গাড়িতে গতি নিয়ন্ত্রক যন্ত্র বসানোর নির্দেশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজি ও বিআরটিএ'র চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গতকাল আদালত অবমাননার রুল জারি করলেন হাইকোর্ট।