শিক্ষক নিয়োগে আসছে বিশেষ বিসিএস

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০১৮      

সাব্বির নেওয়াজ

চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর। ৩৯তম (বিশেষ) বিসিএস পরীক্ষায় চিকিৎসক ও ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর এবার সরকারি কলেজগুলোর শূন্য পদে ১ হাজার ১৮৮ জন শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার আয়োজন করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে পাবলিক সার্ভিস কমিশনকে (পিএসসি) চিঠি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ (মাউশি)।

গত সপ্তাহে এ চিঠি পাঠানো হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন চিঠি পাঠানোর কথা স্বীকার করেছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (কলেজ-১) একেএম মাসুদ সমকালকে বলেন, 'বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে এক হাজার ১৮৮ জন কলেজ শিক্ষক নিয়োগ দিতে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় তা পিএসসিতে পাঠিয়েছে।'

পিএসসি সূত্র জানায়, ৩৯তম বিসিএস বিশেষ হওয়ায় নিয়মানুযায়ী পরবর্তী পরীক্ষাটি হবে সাধারণ। এ নিয়ে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে পিএসসি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুরোধ পাওয়ার পর ৪১তম বিসিএস পরীক্ষাকে শুধু শিক্ষক নিয়োগের জন্য আয়োজন করার চিন্তা-ভাবনা করছে পিএসসি। ৪০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নেওয়ার পর ৪১তম বিশেষ বিসিএসের সার্কুলার দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য ক্যাডারে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার জন্য গত ৩ আগস্ট ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের বাছাই পরীক্ষা নেওয়া হয়। গত ৮ এপ্রিল ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। এই বিসিএসে অংশ নিতে ১০ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অনলাইনে ৩৯ হাজার ৯৫৪ জন চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেছেন।

৩৯তম বিসিএসের মাধ্যমে ৪ হাজার ৫৪২ জন সহকারী সার্জন এবং ২৫০ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ দেওয়া হবে।

পিএসসি সূত্র জানায়, ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের

পর ৪০তম সাধারণ বিসিএস হবে। আগামী

মাসে (সেপ্টেম্বর) ৪০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতে পারে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, ৪০তম বিসিএসে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে শূন্য পদে প্রায় ২ হাজার কর্মকর্তা নিয়োগের চাহিদা পিএসসিতে পাঠানো হয়েছে। এতে প্রশাসন ক্যাডারে ২০০, পুলিশে ৭৫, পররাষ্ট্রে ২৫, ইকোনমিক ক্যাডারে ৪৫, কর ক্যাডারে ২৪, অডিটে ২২, শিক্ষায় দুই শতাধিক, আনসারে ১২ জন নিয়োগের সুপারিশ করা হবে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন পর কাস্টমস ক্যাডারে ৩২ জন ক্যাডার কর্মকর্তা নেওয়ার সুপারিশ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

পিএসসির একজন পরিচালক সমকালকে বলেন, ৪০তম বিসিএসের সার্কুলার জারির আগে শূন্য পদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ৪০তম বিসিএসের পরই ৪১তম বিশেষ বিসিএসের সার্কুলার জারি করতে পারে পিএসসি। তবে এ বিষয়ে এখনও কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে দায়িত্বশীল কেউ কথা বলতে রাজি হননি। পিএসসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক বলেন, 'আমরা ৪০তম বিসিএস নিয়ে কাজ করছি। ৪০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি সেপ্টেম্বর মাসে ওয়েবসাইট ও পত্রিকায় প্রকাশ করা হতে পারে।'

জানা গেছে, ৪০তম বিসিএসেও লিখিত পরীক্ষার প্রতিটি খাতা দু'জন পরীক্ষক মূল্যায়ন করবেন। তাদের নম্বরের ব্যবধান ২০ শতাংশের বেশি হলে তৃতীয় পরীক্ষকের কাছে খাতা পাঠানো হবে। এর ফলে পরীক্ষার্থীদের মেধা যথাযথভাবে মূল্যায়িত হবে বলে মনে করছে পিএসসি। এই বিসিএস থেকে বাংলাদেশ বিষয়াবলির ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় আলাদা করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে ৫০ নম্বরের প্রশ্ন রাখা হবে। কেউ চাইলে ইংরেজিতেও উত্তর দিতে পারবেন। সাত বিভাগের পাশাপাশি এবার নতুন বিভাগ ময়মনসিংহেও পরীক্ষা নেওয়া হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ জানায়, সরকারি কলেজগুলোতে বর্তমানে শিক্ষক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ সংকট কাটাতে বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা নেওয়ার জন্য পিএসসির কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। এ ছাড়া ৩৬তম বিসিএস থেকে ৯৪৭ জন,

৩৭তম বিসিএস থেকে ২২৪ জন এবং ৩৮তম বিসিএস থেকে ৯৯২ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশের ৩৩০টি সরকারি কলেজে বিভিন্ন বিষয়ের ৩ হাজার ৩৫১টি পদ শূন্য রয়েছে। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের মোট পদ ১৭ হাজার হলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ১৪ হাজারের কাছাকাছি শিক্ষক-কর্মকর্তা।

এ ক্যাডারের সংগঠন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সভাপতি ও রাজধানীর কবি নজরুল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আইকে সেলিমউল্লাহ খন্দকার সমকালকে বলেন, শিক্ষক সংকটে সারাদেশে সরকারি কলেজগুলোতে পাঠদান তীব্রভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কবি নজরুল সরকারি কলেজে পদার্থবিদ্যা বিষয়ে শিক্ষকের মোট পদ ৪টি। অথচ কর্মরত রয়েছেন দু'জন। এ বিভাগে দুটি প্রভাষক পদই খালি। দুইজন শিক্ষক দিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক, অনার্স ও মাস্টার্সের ক্লাস নেওয়া খুবই কঠিন। তিনি বলেন, তার কলেজে শুধু উচ্চ মাধ্যমিকেরই শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪ হাজারের বেশি। তিনি বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা নিয়ে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান।