পরিবহন আইন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা :ফখরুল জামায়াত নিয়ে জোট শরিকদের ক্ষোভ

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০১৮      

সমকাল প্রতিবেদক

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার এতদিন সড়ক পরিবহন আইন সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের আশান্বিত করেছিল। তবে কোটা আন্দোলনের মতোই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আরেকটা প্রতারণা করা হয়েছে। যেমন শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল দুর্ঘটনায় দায়ী চালকদের মৃত্যুদণ্ড।

অথচ মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত আইনে তা নেই।

গতকাল মঙ্গলবার ২০ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রাতে এ বৈঠক হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, আইনে গাড়ি মালিকদের সম্পর্কে কোনো কিছু বলা নেই। দুর্ঘটনায় মৃত্যুর জন্য চালকদের সর্বোচ্চ শাস্তি রাখা হয়েছে পাঁচ বছর।

বিএনপি মহাসচিব সরকারের উদ্দেশে বলেন, মন্ত্রিসভায় আইনের খসড়া অনুমোদন হয়েছে। এটা এখনও সংসদে পাস হয়নি। আশা করব যে, সংসদে আইনটি পাসের আগে বিষয়টি আবার তারা বিবেচনায় নিয়ে দেখবেন।

বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরে ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী নজরুল ইসলাম খান বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিশু-কিশোরদের ওপর পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের হামলা, আলোকচিত্রীদের ওপর নির্মম নির্যাতন, প্রবীণ আলোকচিত্রী শহিদুল ইসলামকে গ্রেফতারের ঘটনায় ২০ দলীয় জোট নিন্দা জানিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মিডিয়ার ওপর নানা ধরনের

সরকারি নিষেধাজ্ঞা এবং জনগণের মত প্রকাশের ওপর হস্তক্ষেপ করা থেকে সরকারকে বিরত থাকতেও জোটের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের নিন্দা জানিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, জোটের বৈঠকে কয়েকটি শরিক দলের নেতা জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গ টেনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে জামায়াতের প্রার্থী দেওয়ায় ক্ষোভ দেখান। জোটের একটি শরিক দলের নেতা বিএনপি মহাসচিবকে নিয়ে জামায়াতের নেতা মিয়া মোহাম্মদ গোলাম পরওয়ারের বিবৃতি নিয়ে কথা বলেন। তখন মির্জা ফখরুল বলেন, বিষয়টিতে তিনি কষ্ট পেয়েছেন। বৈঠকে জামায়াত প্রতিনিধি আবদুল হালিম উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, ইসলামী ঐক্যজোটের এম এ রকীব, খেলাফত মজলিশের মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, জাগপার তাসমিয়া প্রধান প্রমূখ।