ডুবতে ডুবতে রক্ষা পেল ফেরিটি

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০১৮      

মুন্সীগঞ্জ ও শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি

ডুবতে ডুবতে রক্ষা পেল ফেরিটি

মঙ্গলবার শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে মাঝ পদ্মায় তলা ফেটে ফেরি 'রানীক্ষেতে' পানি উঠতে শুরু করে। পরে ফেরিটিতে পাম্প লাগিয়ে পানি অপসারণ করা হয় - সমকাল

অল্পের জন্য ২২টি যানবাহন ও পাঁচ শতাধিক যাত্রী নিয়ে মাঝ পদ্মায় রক্ষা পেল ডাম্ব ফেরি 'রানীক্ষেত'। শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ড্রেজিংয়ের মার্কিং (সীমানা চিহ্ন) বয়ার সঙ্গে ধাক্কা লেগে তলা ফেটে ফেরিটিতে পানি উঠতে শুরু করে। চালক একটি ডুবোচরে ফেরিটি ঠেকিয়ে ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা করেন। পরে ১০ ঘণ্টা চেষ্টার পর বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি, ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ড ফেরিটি উদ্ধার করে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কাঁঠালবাড়ি ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী ঘাটে আনতে সমর্থ্য হয়। সকাল ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনার পরপরই ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে সকাল ১১টা নাগাদ ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ফেরির কর্মচারী ও প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীরা জানান, সকালে ট্রাকসহ ছোট-বড় ২২টি যানবাহন নিয়ে শিমুলিয়া থেকে কাঁঠালবাড়ি ঘাটের উদ্দেশে রওনা হয় ফেরি রানীক্ষেত। মূল পদ্মা অতিক্রম করে লৌহজং টার্নিং পয়েন্ট হয়ে নৌ-চ্যানেলে প্রবেশের সময় প্রচণ্ড বাতাসে ফেরিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। পরে সেখানে থাকা বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিংয়ের মার্কিং বয়ার সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে ফেরির তলা ফেটে পানি উঠতে শুরু করে। এ সময় ফেরিটি টেনে নেওয়ার দায়িত্বে থাকা আইটি জাহাজ-৯৫ এর মাস্টার আব্দুল হাই ও সেকেন্ড মাস্টার শাহীনের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে গতি বাড়িয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে পদ্মার চরে ফেরিটি ঠেকিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ফেরিতে থাকা কর্মচারীরা বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে ফুটো বন্ধ করার চেষ্টা চালান এবং পাম্প দিয়ে পানি সেঁচতে শুরু করেন। ফেরিতে থাকা যাত্রীদের চলাচলরত লঞ্চ ও ট্রলারে উঠিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ফেরিটিতে পৌঁছান। এরপর বিভিন্ন সংস্থার তৎপরতায় ফেরিটিতে পাম্প লাগিয়ে পানি অপসারণ শুরু করা হয়। বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দল তলানি মেরামত করতে সমর্থ্য হলে বিকেল ৫টার দিক ফেরিটিকে উদ্ধার করে কাঁঠালবাড়ি ঘাটে নিয়ে আসা হয়।

ফেরিতে আটকেপড়া শ্রমিকরা জানান, সরু চ্যানেলে মান্ধাতা আমলের এই ফেরিটি বয়ার সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে তলানি ফেটে যায়। ভাগ্য ভালো সরু চ্যানেলে এটি ঘটেছে। মূল নদীতে হলে ফেরি ডুবে শত শত যাত্রী মারা যেত।

কোস্টগার্ড কমান্ডার মতিউর রহমান বলেন, ডুবোচর ও বয়ার সঙ্গে ধাক্কা লেগে ফেরিটির তলা ফেটে দুটি কম্পার্টমেন্টে পানি ঢুকেছিল। যৌথ প্রচেষ্টায় ফেরিটি উদ্ধার সম্ভব হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক আসগর আলী বলেন, বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দলসহ সব সংস্থার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় একটি বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া জোনের ডিজিএম মো. আশিকুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই আমরা যাত্রীদের লঞ্চে নিরাপদ স্থানে

সরিয়ে নিয়েছি।