নির্বাচনী ট্রেনযাত্রায় ওবায়দুল কাদের

চারদিকে দেখা যাচ্ছে নৌকার গণজোয়ার

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

অমরেশ রায়, ট্রেনযাত্রা থেকে

চারদিকে দেখা যাচ্ছে নৌকার গণজোয়ার

শনিবার ঈশ্বরদীর মুলাডুলি রেলস্টেশনে পথসভায় বক্তব্য দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের- সমকাল

আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় এলে দেশের শতভাগ উন্নয়ন হবে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে। শেখ হাসিনা যে প্রতিশ্রুতি দেন, তা রক্ষা করেন। নির্বাচনে আবার আওয়ামী লীগের জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, চারদিকে নৌকার গণজোয়ার দেখা যাচ্ছে।

'নির্বাচন বানচালে বিএনপির ষড়যন্ত্র' ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, গুজব-সন্ত্রাস চালিয়ে দলটি দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির সব ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।

গতকাল শনিবার আওয়ামী লীগের নির্বাচনী সফরের ট্রেনযাত্রায় উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার পথসভায় ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। ট্রেনযাত্রার শুরুতে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। এরপর সকাল ৮টায় 'নীলসাগর এক্সপ্রেস' ট্রেনে যাত্রা শুরু করে নীলফামারী যাওয়ার পথে টাঙ্গাইল, পাবনার ঈশ্বরদী, নাটোর, বগুড়ার সান্তাহার, আক্কেলপুর, জয়পুরহাট, দিনাজপুরের বিরামপুর, ফুলবাড়ী, পার্বতীপুর ও নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলস্টেশনে ১১টি পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

নাটোরের আত্রাইয়ের আহসানগঞ্জ ও নলডাঙ্গার হাট স্টেশনে ট্রেন পৌঁছলে নেতাকর্মীরা রেললাইনের ওপর শুয়ে পড়লে এ দুটি স্থানে অনির্ধারিত পথসভা করতে হয়েছে। সবশেষে রাতে নীলফামারী জেলা সদরের শিল্পকলা একাডেমিতে কর্মিসভা অনুষ্ঠিত হয়। কমলাপুর রেলস্টেশনে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক আওয়ামী লীগ নেতাদের বিদায় জানান। অন্যদিকে পাবনায় ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ও নীলফামারীতে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর তাদের স্বাগত জানান।

এসব পথসভায় হাজার হাজার মানুষ সমবেত হন, পথসভা পরিণত হয় জনসভায়। প্রতিটি স্থানেই ছিল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপচেপড়া ভিড়। বর্তমান এমপি ও মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের শোডাউন ছিল চোখে পড়ার মতো। এ সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ বিভিন্ন নেতার নামে স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা।

আগামী নির্বাচন সামনে রেখে সরকারের উন্নয়নকাজ তৃণমূলে পৌঁছে দিতে এবং দলকে শক্তিশালী করতে দেশের উত্তরাঞ্চলে এই ট্রেন সফরের আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। মূলত এর মাধ্যমেই শুরু হলো আওয়ামী লীগের নির্বাচনী সফর। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর লঞ্চে বরিশাল ও বরগুনা এবং পরে সড়কপথে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা সফরে বের হবেন আওয়ামী লীগ নেতারা। এসব পথসভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, পথসভাগুলো রীতিমতো জনসভায় রূপ নিয়েছে। নৌকা মার্কায় ভোট দিলে দেশের উন্নতি

হয়। সমৃদ্ধির পথে দেশ এগিয়ে যায়। বিশ্বের বুকে মর্যাদা বাড়ে। জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন হয়। আর বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসা মানেই দেশের অর্থ লুটপাট করে নিজেদের ভোগবিলাস ও বিদেশে পাচার, রাষ্ট্রীয় মদদে জঙ্গিবাদ ঘটানো। কাজেই আগামী নির্বাচনে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে সরকারের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। সে কারণে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে হবে।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দলের ভেতরে কোন্দল করবেন না। বিশৃঙ্খলা করলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্লোগান দিয়ে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া যাবে না। যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও জনগণ যাকে পছন্দ করে, তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। একটি নয়, পাঁচটি জরিপ হয়েছে। শেখ হাসিনার কাছে সবার আমলনামা রয়েছে। যারা মানুষের হৃদয়ে নাম লেখাতে জানেন না, জনগণের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন, অপরাধ করেন- তারা মনোনয়ন পাবেন না। মনোনয়ন পেতে হলে জনগণের মনজয় করতে হবে। দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে যারা বিদ্রোহ ও বিশ্বাসঘাতকতা করবে, সঙ্গে সঙ্গে তাদের দল থেকে বহিস্কার করা হবে। অসুস্থ প্রতিযোগিতার কোনো ক্ষমা নেই।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আন্দোলন গড়ে তুলতে ব্যর্থতার দায়ে বিএনপির 'টপ টু বটম' নেতার পদত্যাগ করা উচিত। বিএনপি আন্দোলন-সংগ্রামে পরাজিত হয়ে নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত করছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির আন্দোলন প্রতিহত করে নৌকা মার্কার বিজয় নিশ্চিত করা হবে।

প্রতিটি পথসভায় ওবায়দুল কাদের দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে আগামী নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ দু'হাত তুলে সেই প্রতিশ্রুতি দেন।

টাঙ্গাইল রেলস্টেশনের প্রথম পথসভায় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে ওবায়দুল কাদের বলেন, দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। তিন দিনের মধ্যেই শোকজ যাবে। তাই ঘরের মধ্যে ঘর বানানোর চেষ্টা করবেন না। মশারির মধ্যে মশারি টানানোর চেষ্টা করবেন না। শেখ হাসিনার অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন। উপস্থিত সাধারণ মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল অফিসগামী ট্রেন চালুর প্রতিশ্রুতি দেন সেতুমন্ত্রী।

পাবনার ঈশ্বরদীর মুলাডুলি রেলস্টেশনে পথসভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, ২০১৪ সালের মতো বিএনপি-জামায়াত আগামী নির্বাচনেও নাশকতার চেষ্টা করলে প্রতিহত করা হবে। উন্নয়নের বাংলাদেশে কোনো নাশকতা চলতে দেওয়া হবে না। আর উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতায় আনতে হবে। এ জন্য নৌকা মার্কায় ভোট দিতে হবে। সরকার ও দলের ভুলত্রুটি সংশোধনের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

এই স্টেশনের প্রধান মনিরুজ্জামান জানান, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের কাছে কোনো অনুমতি না নিয়ে সভামঞ্চ তৈরি করেছে।

নাটোর রেলস্টেশনে কাদের বলেন, বিএনপির এমন কোনো কাজ আছে যে তারা ভোট চাইতে পারে? দেশে উন্নয়ন অগ্রগতির এমন কী আছে, যা দেখে বিএনপিকে মানুষ ভোট দেবে? কিছুই নেই। বিএনপি মহাসচিবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল বলেছেন আওয়ামী লীগের নাকি ভোট কমেছে। শেখ হাসিনার ইতিবাচক রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ভোট বরং বেড়েছে। আর বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতিতে তাদের ভোট কমেছে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ১০ বছরে ১০ মিনিটের জন্যও বিএনপি রাস্তায় নামতে পারেনি। ভেবেছিল খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর সাগরের উত্তাল নামবে। কিন্তু নদীর ঢেউও হলো না। বিএনপির আন্দোলনের মরা গাঙ্গে জোয়ার আর আসে না, আসবে না।

বগুড়ার সান্তাহার, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর ও জয়পুরহাট সদরের পথসভায় তিনি বলেন, দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ২০০১ সালের চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে। কেউ নিরাপদ থাকবে না। তিনি বলেন, নৌকার পালে সুবাতাস বইছে। সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন ও উঠান বৈঠক করার নির্দেশ দেন তিনি। তরুণ ও নারী ভোটাররাই আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের হাতিয়ার হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে, সকালে ট্রেনযাত্রার শুরুতে কমলাপুর রেলস্টেশনে ওবায়দুল কাদের বলেন, এই যাত্রা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী যাত্রা। এই যাত্রা অব্যাহত থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নবার্তা তৃণমূলে পৌঁছে দিতেই এই নির্বাচনী সফর। তৃণমূলের মানুষ যাতে বিএনপি-জামায়াতের গুজবের রাজনীতি বিষয়ে সচেতন হন, সে বিষয়েও দলের এই সাংগঠনিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে নির্বাচনী এই ট্রেন সফরে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে জাহাঙ্গীর কবির নানক, আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ড. হাছান মাহমুদ, অসীম কুমার উকিল ও ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ূয়া উপস্থিত ছিলেন।

সিরাজগঞ্জে পথসভা হয়নি :সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নীলসাগর আন্তঃগনর ট্রেনের স্টপেজ না থাকায় যাত্রাপথে সিরাজগঞ্জে ওবায়দুল কাদেরের পথসভা হয়নি। সফরকালে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ে শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশনে শনিবার দুপুরে পথসভার কথা ছিল সেতুমন্ত্রীর। সফরকালে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি সিরাজগঞ্জে পথসভার ঘোষণা দেওয়া হলেও নীলসাগর ট্রেনের স্টপেজ না থাকায় শেষ পর্যন্ত তা অনুষ্ঠিত হয়নি।



উত্তাপের সঙ্গে মিশে আছে উত্তেজনাও

উত্তাপের সঙ্গে মিশে আছে উত্তেজনাও

সারাদেশের ৩০০ নির্বাচনী এলাকার মধ্যে ঢাকা-১ আসন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। ঢাকা ...

সরব এশিয়া-ইউরোপ

সরব এশিয়া-ইউরোপ

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও নৃশংসতায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ইউরোপ ও এশিয়ার ...

তারাই আমাদের বাতিঘর

তারাই আমাদের বাতিঘর

আবার এসেছে ফিরে ডিসেম্বর। শোক, শক্তি ও সাহসের মাস, আমাদের ...

মর্মন্তুদ সেই দিন আজ

মর্মন্তুদ সেই দিন আজ

'আজ এই ঘোর রক্ত গোধূলিতে দাঁড়িয়ে/ আমি অভিশাপ দিচ্ছি তাদের/ ...

রাজনীতিবিদরা কি হারিয়ে যাবেন

রাজনীতিবিদরা কি হারিয়ে যাবেন

পরিসংখ্যান অনেক সময় নির্মম, যেমন পানিতে ডুবে মারা যাওয়া শিশুদের, ...

ব্যবসায়ীদের হাতেই এখন নাটাই

ব্যবসায়ীদের হাতেই এখন নাটাই

গত ৬ অক্টোবর ২০১৮ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মহামান্য ...

নির্বাচন উদ্দীপনার নাকি আশঙ্কার

নির্বাচন উদ্দীপনার নাকি আশঙ্কার

২০১৪ সালে যেমন কোনো বিকল্প ছিল না, এই ২০১৮-তেও তেমনি ...

তোমার আমার মার্কা...

তোমার আমার মার্কা...

বিষণ্ণ মনে সোফায় বসে পেপার পড়ছিলেন বাবা। ক্লাস নাইনে পড়া ...