বিএনপির ক্ষমতায় আসার কোনো সম্ভাবনা নেই -ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

অমরেশ রায়, ট্রেনযাত্রা থেকে ফিরে

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, উত্তরাঞ্চলে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ট্রেনযাত্রায় জনগণের বিপুল সাড়া বিএনপিকে আবারও বুঝিয়ে দিয়েছে, আগামী নির্বাচনে জয় পাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাদের ক্ষমতায় আসারও আর কোনো সম্ভাবনা নেই। তাই নির্বাচনে হেরে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে তারা এখন নির্বাচন থেকে পালাতে নাশকতার ছক আঁকছে।

গতকাল রোববার নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। আগের দিন শনিবার উত্তরাঞ্চল অভিমুখে এই ট্রেনযাত্রায় ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে নীলফামারী আসেন তিনি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে এই ট্রেনযাত্রার পথে টাঙ্গাইল থেকে শুরু করে বিভিন্ন রেলস্টেশনে ১২টি পথসভা এবং সর্বশেষ নীলফামারীতে দলীয় কর্মিসভায় বক্তব্য দেন ওবায়দুল কাদের।

বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে এসব সভায় আওয়ামী লীগ নেতারা সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে মানুষের কাছে নৌকায় ভোট প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনাও দেন। সেখান থেকে বিমানযোগে ঢাকায় ফেরার  পথে গতকাল সকালে ওই সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনে হেরে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে বিএনপির এখন টার্গেট হচ্ছে নির্বাচন থেকে কীভাবে পালিয়ে যাওয়া যায়। নির্বাচন থেকে পালাতে তারা নাশকতার ষড়যন্ত্র করছে। পালাতে হলে নাশকতা ও সহিংসতা ছাড়া তাদের আর উপায় নেই।

নির্বাচন সামনে রেখে দেশে কোনো অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা আছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মাত্র দেড় থেকে দুই মাস বাকি। এ সময়ে দেশে কোনো অস্থিরতা আছে? কোনো অশান্তি আছে? আমাদের প্রতিপক্ষের বিষোদ্গারের মধ্যে অশান্তি আর অস্থিরতা বিরাজ করছে। কিন্তু দেশের জনগণের মধ্যে কোনো অস্থিরতা নেই।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না- বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, শনিবার আওয়ামী লীগের ট্রেনযাত্রায় যে জনস্রোত, তা তো ১০ বছরেও বিএনপি মাঠে নামাতে পারেনি। ১০ বছরে ১০ মিনিটও তারা রাস্তায় নামেনি। খালেদা জিয়া যখন জেলের বাইরে ছিলেন, তখনও তার ডাকে মানুষ সাড়া দেয়নি। তাই বিএনপি বিরোধী দল হওয়ারও যোগ্যতা হারিয়েছে। এ দেশে কোনো ব্যর্থ বিরোধী দলের নাম নিতে হলে বিএনপিকে চিরকাল মানুষ মনে রাখবে। আন্দোলনের সক্ষমতা তারা দেখাতে পারেনি। কাজেই বিএনপির আন্দোলনের হুমকি তর্জন-গর্জন ছাড়া আর কিছুই নয়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আন্দোলনের ডাক দিয়ে এই দলের নেতাদের কয়েকজন এখন পল্টনের অফিসে বসে সারাদিন ফেসবুকিং করেন। আর বেশিরভাগই এসি রুমে বসে হিন্দি সিরিয়াল দেখেন। ১০ বছরে তারা মাঠে নামতে পারেনি, আগামীতেও পারবে না। বিএনপির আন্দোলন মাঠে না থাকলেও মিডিয়ায় আছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ কারণেই তারা শিক্ষার্থী আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলনে ভর করার চেষ্টা করেছে। তবে সব জায়গাতেই তারা ব্যর্থ।

তিনি বলেন, আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি এখন দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। এমন তথ্যও সরকারের কাছে রয়েছে। তারা দেশ-বিদেশে বসে নাশকতা কীভাবে করা যায়, সে পরিকল্পনা করছে। গতকালের ট্রেনযাত্রায় পথসভার উপস্থিতি দেখে তারা তো বুঝতে পেরেছে, এ দেশে বিএনপি ও তাদের দোসরদের নির্বাচনে জয়লাভ করা সম্ভব নয়।

আগামী নির্বাচনের আগে 'নির্বাচনকালীন সরকার' গঠন-সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারের কার্যপরিধি, আকার ও গঠন সবই সংবিধানে বলা আছে। এ সরকার গঠন প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তিনিই জানেন, কবে, কখন ও কীভাবে এই সরকার গঠন হবে। তবে গতবার এ সরকারের আকার সংক্ষিপ্ত হয়েছে, এবারও সেটাই হবে বলে আমার ধারণা। আর বিএনপিসহ যেসব দলের সংসদে প্রতিনিধিত্ব নেই, তারা এই সরকারে আসতে পারবে না।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ট্রেনযাত্রায় সন্তোষ জানিয়ে তিনি বলেন, এত বিপুলসংখ্যক মানুষ আসবেন, তা তিনি নিজেও কল্পনা করেননি। টাঙ্গাইল থেকে নীলফামারী যে বিপুল জনস্রোত, তারা সবাই কি আওয়ামী লীগ করেন? আর এত সুশৃঙ্খলাবদ্ধ সমাবেশ, কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা নেই, সিঙ্গেল ইনসিডেন্সও নেই। নেতাকর্মীরা দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেছেন, কিন্তু কোনো টুঁ শব্দ হয়নি। কোথাও কোনো মারামারি ও হাতাহাতি হয়নি। বিপরীতে বিএনপির সমাবেশ মানেই নেতাকর্মীদের হাতাহাতি, মারামারি ও বিশৃঙ্খলা।

দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনের উদ্যোগ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, কিছু কিছু এলাকায় দ্বন্দ্ব-কোন্দল নিরসন করা হয়েছে। কিছু জায়গায় প্রকাশ্যে সতর্ক করা হয়েছে, কিছু জায়গায় নেতাদের ট্রেনে ডেকে এনেও সতর্ক করা হয়েছে।

তিনি জানান, পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে পদ্মা সেতুর স্প্যান বসাতে সমস্যা দেখা দেওয়ায় এই সেতুর কাজ শেষ করতে বিলম্বিত হতে পারে। আগামী মাসে দেশের প্রথম ছয় লেনের ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও উপদপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।



খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা নিয়ে রিট শুনানি তৃতীয় বেঞ্চে

খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা নিয়ে রিট শুনানি তৃতীয় বেঞ্চে

আসন্ন নির্বাচনে তিন আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা ...

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে যান চলাচলে ডিএমপির নির্দেশনা

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে যান চলাচলে ডিএমপির নির্দেশনা

আগামী ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং ...

আ.লীগের মতো উন্নয়ন কেউ করেনি: নাসিম

আ.লীগের মতো উন্নয়ন কেউ করেনি: নাসিম

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যে উন্নয়ন হয়েছে তা অতীতের কোন ...

'স্লগ ওভারে বোলিংয়ে উন্নতি দরকার'

'স্লগ ওভারে বোলিংয়ে উন্নতি দরকার'

গেল জুলাইয়ের কথা। ওয়ানডে সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ...

এফডিসিতে হবে আধুনিক মসজিদ

এফডিসিতে হবে আধুনিক মসজিদ

২ কোটি ৯ লক্ষ টাকা ব্যায়ে চলচ্চিত্রপাড়া খ্যাত এফডিসিতে নির্মিত ...

প্রার্থী বৈধ অস্ত্র সঙ্গে রাখতে পারবেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রার্থী বৈধ অস্ত্র সঙ্গে রাখতে পারবেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আত্মরক্ষার জন্য প্রার্থীর যে ...

চ্যাম্পিয়নস লিগে ১৫ দল শেষ ষোলোয়

চ্যাম্পিয়নস লিগে ১৫ দল শেষ ষোলোয়

চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ শেষ হয়েছে মঙ্গলবার রাতে। ...

আবারও ক্ষমতায় আসতে পারে আ. লীগ: ইআইইউ

আবারও ক্ষমতায় আসতে পারে আ. লীগ: ইআইইউ

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সংসদের বেশিরভাগ আসনে বিজয়ী হয়ে আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় ...