ইয়াবা বিক্রির দৃশ্য ধারণ

নোয়াখালীতে গরম তেলে কিশোরকে চুবিয়ে হত্যাচেষ্টা

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

নোয়াখালী প্রতিনিধি

ইয়াবা বিক্রির দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করায় গরম তেলের কড়াইয়ের মধ্যে চুবিয়ে এক কিশোরকে হত্যার চেষ্টা করেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। শনিবার সন্ধ্যায় নোয়াখালী সদর উপজেলার পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামের বেদেপল্লীতে এ ঘটনা ঘটে। শরীরের ৬০ শতাংশ দগ্ধ কিশোর তারেক আজিজকে (১৭) প্রথমে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে গতকাল সোমবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ  হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এলাকাবাসী গতকাল সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বেদে পল্লীতে দফায় দফায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করেছে। এতে ১০ জন আহত হয়েছে। খবর পেয়ে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী ও জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ওই স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জানা যায়, নোয়াখালী সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামে বছর দশেক আগে একদল বেদে জমি কিনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। স্থানীয় এওজবালিয়া ইউনিয়নবাসীর অভিযোগ, বেদে পল্লীর লোকজন দীর্ঘদিন থেকে এলাকায় মাদকের ব্যবসা করে আসছে। এলাকাবাসী এসব কাজে বাধা দিতে গেলে বেদেরা তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। গত শনিবার সন্ধ্যায় পূর্ব এওজবালিয়া বেদে পল্লীতে স্থানীয় বেদে মিটন মাদক সেবনকারী টুকু, মোস্তাকসহ কয়েকজন মাদকসেবীর কাছে ইয়াবা বিক্রি করছিল। স্থানীয় দেলোয়ার হোসেন বাহারের ছেলে তারেক আজিজ এই মাদক বিক্রির দৃশ্য তার মোবাইল ফোনে ধারণ করে। মাদক ব্যবসায়ী মিটন ও বেদে পল্লীর লোকজন টের পেয়ে তারেক আজিজকে ডেকে নিয়ে মারধর করে মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে তারেক বাধা দিতে গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে স্থানীয় একটি দোকানের পুরি ভাজার গরম তেলের কড়াইয়ে তারেক আজিজকে চেপে ধরে। এতে সে দগ্ধ হলে ফোনটি নিয়ে যায় মাদক বিক্রেতারা। এ ঘটনায় তার শরীর ঝলসে যায়। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের ওপর হামলা করে আহত করে।

এই ঘটনার প্রতিবাদে এওজবালিয়া গ্রামবাসী সম্মিলিতভাবে গতকাল সোমবার সকাল ১০টার সময় বেদে পল্লীতে হামলা চালায়। এ সময় বেদে পল্লীর পলিথিনের তৈরি ৮টি খুপরি ঘর পুড়িয়ে দেয় এবং ১৫টি টিনের ঘর ভাংচুর করে। খবর পেয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈকত শাহীনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২০-৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বিকেলে নোয়াখালী-৪ আসনের এমপি একরামুল করিম চৌধুরী বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বেদে সম্প্রদায়ের লোকজনের জন্য এক লাখ টাকা নগদ অনুদান দেন এবং জেলা প্রসাশনের পক্ষ থেকে ত্রাণের ব্যবস্থা করেন।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দ মহিউদ্দিন আব্দুল আজিম বলেন, দগ্ধ কিশোর তারেক আজিজের শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।