শোকজ ও লিখিত জবাব স্বাগত জানালেন দিনাজপুরের এমপি মনোরঞ্জন শীল

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

দিনাজপুর প্রতিনিধি

দলীয় সংসদ সদস্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করায় দিনাজপুরে দুই আওয়ামী লীগ নেতাকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে সাংগঠনিক অবস্থা জানতে ওই সংসদ সদস্যের কাছেও সুস্পষ্ট লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে।

এই শোকজ বিষয়ে কিছু বলতে চাননি ওই দুই আওয়ামী লীগ নেতা। জানিয়েছেন, শোকজ নোটিশপ্রাপ্তির পর বিষয়টি জানানো হবে। আর দলীয় সংসদ সদস্য বলেছেন, কেন্দ্র থেকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যা সঠিক।

গত ৫ সেপ্টেম্বর বীরগঞ্জ উপজেলার বিজয় চত্বর এলাকায় এক সমাবেশে ঘুষ-দুর্নীতি, জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতা, দলীয় কর্মীদের মিথ্যা মামলায় হয়রানি এবং তৃণমূলের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করার অভিযোগ এনে দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপালকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বীরগঞ্জ-কাহারোল আওয়ামী ঐক্য পরিষদ। এই সমাবেশের মূল আয়োজনে ছিলেন- জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হামিদুল ইসলাম, বীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জাকারিয়া জাকা, বীরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য আমিনুল ইসলাম, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি আবু হোসাইন বিপু।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার দলের কার্যনির্বাহী সংসদ জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হামিদুল ইসলাম বীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জাকারিয়া জাকাকে দলের সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধাচরণের অভিযোগ এনে শোকজ

নোটিশ পাঠান। এ ছাড়াও দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় নেতাকর্মীদের ক্ষোভ ও অসন্তোষের কারণ নিয়ে সুস্পষ্ট জবাব চাওয়া হয়েছে সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপালের কাছে।

অ্যাডভোকেট হামিদুল ইসলাম বলেন, 'আমরা এখনও পাইনি। চিঠি না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টি বলা যাবে না। তবে সেদিনের সমাবেশে উপস্থিত জনগণই চাচ্ছিল তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার। এমপির কার্যক্রমে জনগণ অতিষ্ঠ। যাই হোক, আমরা চিঠি পাওয়ার পর জবাব দেব।'

এমপি মনোরঞ্জন শীল বলেন, 'কী জানতে চাওয়া হয়েছে- সেই কাগজ এখনও আমি পাইনি। বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ; এখানে মনোনয়নপ্রত্যাশী অনেকেই থাকতে পারেন। কিন্তু যে দলের কাছে মনোনয়ন চাচ্ছি, আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে সেই দলকে ধ্বংস করায় কোনো ভূমিকা থাকা ঠিক না। দলীয় এমপির বিরুদ্ধাচরণ করায় দলের ক্ষতি হচ্ছে এবং দলকে বিভক্ত করে বিতর্ক করার চেষ্টা হচ্ছে। কেন্দ্র এ বিষয়টি অবহিত হয়েই সিদ্ধান্ত গ্রহণের চিন্তা করছে।' সিদ্ধান্ত সঠিক বলে জানান তিনি।